সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ১০)

পুপুর ডায়েরি

তখন আমি দুই বছর ।
বাবা খাটে উপুড় হয়ে শুয়ে বিদ্যার্থী রঞ্জন-এর সম্পাদকীয় লিখতেন । আমি বা-র পিঠে শুয়ে লেখা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়তাম । মা তখন অফিসে ।
তখন থেকেই জেনে গেলাম , সম্পাদকের কাজ পত্রিকার পাতার তলার ফাঁকগুলো ভরানো , প্রুফ দেখা , আসেপাশে ছবি , মানে অলংকরণ বা উদ্ধৃতি দিয়ে পাতাগুলোকে সাজিয়ে দেয়া ।
পরবর্তী কালে ছাপার কাজে ব্যস্ত বন্ধুস্বজনদের এই কাজ করতে দেখলে তাই ভারি চেনা কাজ বলে মনে হয় । লে আউট করতে দেখতে দেখতে , অক্ষরের বিন্যাস মাপ , বা বলতেন ,লেটারিং; এই দেখে অজ্ঞান থেকে জ্ঞানে এসেছিল একটা ছোট মস্তিষ্ক ।
অজান্তেই শিখে গেছি । এগুলোকে জরুরি কাজ বলে ভাবিনি ত । এই জন্যেই নিজেকে অভিমন্যু মনে হয় ।।

মা এবারে রেগুলার অফিসে জয়েন করবেন , আর পত্রিকার নিজস্ব অফিস হয়েছে , সেখানে বাবাকে যেতে হবে , তাই আমার জন্যে কবীর রোডে বেবি ক্রেশ ঠিক করে এলেন বাবা মা দু জনে গিয়ে ।
সেই থেকে কবীর রোডের সাথে আমার সম্পর্ক ।
আমার বাচ্চারা বড় হওয়া অবধি সে সম্পর্ক অটুট রয়েছে ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।