ক্যাফে কলামে সঙ্কর্ষণ

দুঃখেষ্বনুদ্বিগ্নমনাঃ
এই যে আয়ু শেষে অকস্মাৎ ফিরিয়ে নেওয়া বা ক্ষণেক মানুষকে ‘মৃত্যু হ’তে জীবনের সম্মুখে’ নিয়ে আসা, এসব অনিত্যতা যখন উপলব্ধি করে মানুষ, তখন বিলম্ব হ’য়ে যায় অনেকখানি। ঈশ্বর বা প্রকৃতি যে’ই হননা কেন, ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তিনি নিতান্ত অক্ষম। সক্ষমও অবশ্য।
মৃত্যুপথযাত্রী প্রায়শই চিন্তনের পরিসরে থাকলেও, যাত্রা সম্পর্কে আলোচনা স্বেচ্ছায় পরিহার করা জনসাধারণের উপজীব্য। যারা তা সম্পূর্ণ করে, তাদের শান্তি কতোখানি হ’লো, সে সত্য অজ্ঞাত থাকলেও যারা থেকে যায় তারাই এক অন্ধকার পথে নিষ্প্রাণ বিচরণ করে। আমরা দেখি।
স্বজনকে হারাবার পবিত্র অশ্রুহীন ক্রন্দনে উপনীত হ’তে আমাদের মূলতঃ ৩টি সোপান অতিক্রম ক’রতে হয়। ১। সব ঠিক ছিলো, ২। হঠাৎ কী যে হ’লো, ৩। কেউ কোথাও নেই। এতো মানুষের শোকে কিছু অতিরিক্ত থাকলেও সকলেরই কিন্তু ভয় ঐ একটিই। অভ্যাস বড় সমস্যার।
বস্তুতঃ প্রিয়জন এক অসংজ্ঞায়িত ধারণা মাত্র। প্রেমিক স্তব্ধ হয় প্রেমিকার শোকে, পিতামাতার পৃথিবী শূন্য হয় সন্তানের বিচ্ছেদে, শুভাকাঙ্ক্ষী অশ্রুপাত করে সুহৃদের বিরহে। কিন্তু সকলেই অবগত যে মূল যুদ্ধ আরম্ভ হবে আগামীকাল, যখন উৎকন্ঠা, আশ্বাস সমস্ত একাকার।
বিগত প্রজন্মের একাধিক প্রতিনিধির জিজ্ঞাস্য যে ঘটনা মাত্রেই গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দানে কি আমরা গুরুত্বকে লঘু ক’রিনা? কিছুক্ষেত্রে সম্ভবতঃ ক’রিও। কিন্তু এটুকুই বক্তব্য যে পৃষ্ঠার অভাবে যখন মানুষ ‘পোস্টে’ ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ করে, তখনও তার একাকীত্ব সমানই।
শকুনের অভিশাপে গরুর যেমন মরণ অসম্ভব, তেমনই সম্মিলিত শুভকামনাও কেবল ছবির পর্দাতেই মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ ক’রতে সক্ষম। ৫টি বছর কর্কটরোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধশেষে এক তরুণী প্রায় ২০দিন প্রথমে স্নায়বিক বৈকল্য এবং প্রায় ৯বার হৃদরোগকে পরাস্ত ক’রেছিলো।
এরপর কিছু প্রত্যাশা রাখলে যেমন ন্যায় হ’তো, তেমনই অন্যায়ও। তবু ভালোবাসা এমনই বিষম বস্তু যে ভয়ের সংস্পর্শে এলে অতি বড় নির্বোধও দার্শনিক হ’য়ে পড়ে, নাস্তিকেরও ঈশ্বরে বিশ্বাস জন্ম নেয়। আমাদের দুশ্চিন্তা ক্রমবর্ধমান হ’য়ে পড়ে। অপরের নয়, নিজেদেরই জন্য।
ঈশ্বরও স্মিতহাস্যে সে বিশ্বাসে ভস্ম ঢেলে বিদায় নেন। “বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমনি শক্তিমান? “। সম্ভবতঃ নিষ্ঠুরতা ও কারুণ্যের ভারসাম্য তিনি কখনওই হারাতে চাননি। নিরপেক্ষতা শত শতাংশ বজায় রাখতে যে ত্যাগ ক’রতে হয়, তাতে রাজত্ব হারাবার ভয় প্রবল হ’য়ে ওঠে…
সেই তিনিই সকলকে এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি দিন।
ধন্যবাদ।