সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৯৪)

রেকারিং ডেসিমাল
অবশেষে দুগগা দুগগা বলে রওনা হওয়া গেল।
তিনটে সুটকেশ, দুটো কাঁধের ঝোলায় খাবার, জল, বাচ্চাদের বিস্কুট, বড়োদের পানের সরঞ্জাম, চিরুনি, ওষুধ, তোয়ালে, ছাতা মাথা কি নেই।
মায়ের ঘাড়ে চওড়া ভ্যানিটি ব্যাগ।
তাতে সব টিকিট, গাড়ি , হলিডে হোম হোটেলের বুকিং, একটা কালো খাপে ক্যামেরা, একটা কালো ছোট পাউচে লিপস্টিক কাজল ইত্যাদি।
বাবা আর দুই ছানা ম্যাচিং।
তিন জনেই নেভি ব্লু। বাবা টি শার্ট আর জিনস। মেয়ে কলার দেয়া টি শার্ট আর খয়েরি কর্ডের ডাঙ্গেরি, ছেলে ডেনিমের শার্ট আর হাফ প্যান্ট পড়ে বাবার কোলে। হাওড়া আর প্ল্যাটফর্ম আর রেলের ইঞ্জিন দেখা, তার মধ্যেই জাল দেয়া বাক্স থেকে সিট নাম্বার মিলিয়ে দৌড়। ট্রেন ঢুকে পড়েছে স্টেশনে।
সবাই মিলে গুনে গেঁথে, মানুষ, লাগেজ সব আস্ত আছে বুঝে নেয়া গেল।
ট্রেনের সিটে বসেই উত্তেজিত জনতার দাবি, ছবি তোল, ছবি, ছবি।
বাবা আগের রাতেই কোডাকের ফিল্ম আর ব্যাটারি ভরে নিয়ে এসেছিলেন।
মা ক্যামেরা বের করেই খচাখচ ছবি।
চকচকে চোখ। ট্রেনের বার্থে বসা ভ্রমণ পার্টি।
সবার হাসি এ কান থেকে ওই কান অবদি।
ট্রেন নড়ে উঠতেই ঠাকুমা কপালে জোড় হাত ঠেকান।
জয় বাবা বিশ্বনাথ !