সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সায়ন (পর্ব – ১১)

অমৃতায়ণ

পারিজাত কলেজের ক্যন্টিনেই ছিল এতক্ষণ, এখন একলা ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে । অভিমুখ পাটুলি। মানুষের কাছে কখনও কখনও জীবন বিষয়টাই খুব অবাস্তব হয়ে যায় । সে তখন ভাবে আমি কোন অবস্থায় রয়েছি । কে আছে আমার ঠিক পাশেই , পাশে একবার চোখ ফিরে দেখলো পারিজাত – কে তুই কে …
কলেজের বান্ধবী ,জীবনে একটা রেখাও আঁকতে দেখলাম না কলেজের কোনও অনুষ্ঠানে – হঠাৎ হয়ে গেল শিল্পী! একি কান্ড, সে আবার ছবি চাইছে সবার মুখ আঁকবে বলে এবং নিজে আবার সেটা সিলেক্ট করবে। ওরে বাবা। সবার আস্তে আস্তে নিজস্ব লেখার পেজ।
এরা কারা ?
তো যাই হোক, অনেক কিছু পড়ছে এই ভার্চুয়াল জগতে এসে।
শিখলাম একটাই, যা অতি ভয়ানক ও বটে, ন্যূনতম ভাবনা দিয়ে কিভাবে অগভীরকে একটা গভীর বিষয়ে পাল্টে দেওয়া যায়। হকিইমার কিংবা বদরিলার্দ এর দর্শন নিয়ে টানাটানি করে কিছু বলতে চাই না, কিন্তু ভয় লাগে মনে মনে যখন দেখি মানুষ প্রতিটি বিষয়ে নিজেদের মাথাটা ঘামায়। এতো ঘাম হাওয়া তো ভালো নয় তাই না!
পারিজাত ফোনটা করলো – ধুর কথাগুলো বলবো বলে ফোন করলাম – ধরলো না!
পাটুলি আর বাইপাসের চৌরাস্তার মাঝে এসে দাঁড়ালো –
এটাই ভাবি। আর সবাইকে যে সব বিষয়ে পারদর্শী হতেই হবে এটা তো মানবতার শর্ত কিংবা সংবিধানের প্রস্তাবনা ,এমনটা নয়। তাহলে লেখে কেন সবাই? ইগো? নিজের অস্তিত্বের প্রতি হীনমন্যতা! নাকি সমাজে নিজেকে প্রকাশ করতে না পারার জন্যে একটা অলীক অস্তিত্বের কাছে আত্মপ্রতিষ্ঠার যৌন আনন্দ?
তাহলে লেখার জন্য অবসরের প্রয়োজন আছে এটা মানতে হচ্ছে। কবিতা পাঠ করার জন্য শিক্ষা চাই…. কিন্তু প্রশ্ন হলো, লেখার জন্য অবসর চাই , না ভাবার জন্য অবসর চাই?
হঠাৎ মনে হল সুবোধ সরকারের একটা বই থেকে কতগুলো শব্দ চিৎকার করে উঠলো – “বাংলা কবিতা এলিটিস্ট এতদিন ছিল না। হয়ে গেল।
গত পঞ্চাশ বছরে কোন চামার কবি হতে পারেননি, কোন দলিত কবি হতে পারেননি, কোনও মুচি, মেথর, ডোম কবি হতে পারেননি। আমাদের হাবভাবটা এরকম যে, আমরা ওদেরকে নিয়ে কবিতা লিখব, ওরা কেন নিজেরা কবিতা লিখবে। আমরা ওদের নিয়ে কবিতা লিখে আরও উঁচু এলিটিস্ট হব, ঠিক যেরকম ‘সাবলটার্ন’ নিয়ে লেখালেখি করে সবচেয়ে দামী অভিজাত হোটেলে গিয়ে আমরা ডিনার করে আসি।”
পারিজাত সুলগ্নাকে ছোটোর সঙ্গে বৃজির বস্তির পিছনের মাঠে দেখেছে। দেখতে পেতো না – যদি না সংলগ্না হঠাৎ পালাতো। একটা মেয়ের হঠাৎ কবিতা আবৃত্তি করার জন্য – একটা ছোটো রথীনের মতো ছেলেদের সঙ্গে চুক্তি করার কি কারণ !
আবার ফোনটা বেজে উঠলো পারিজাতের ।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।