|| রথযাত্রা স্পেশাল – এ || লিখেছেন সোনালি

রথযাত্রার সেকাল একাল

দূরদর্শনের পটে নন্দীঘোষ, তালধ্বজ মাঝে দর্পদলন।
পশ্চাৎপটে বর্ষার ঝিরিঝিরি ঝমঝম।

পঁচিশে পা দেওয়া মুখুজ্জেবাবুকে জিগেস করি, রথ বলতে মিলেনিয়াল এবং আরও পরের মানুষ কি ভাবে ?
তিনি বিশ পেরিয়ে এসেছেন বেশ কিছুদিন হল।
যাকে বলে তরুণ তুর্কী।
লিখে দিলেন খসখস করে।

কোভিড কালে রথ এবং ভারচুয়াল প্রেম —-

যাবার বেলায় পিছুটান কেন,
সবার হাত কি নেই?
দর্প দলন হবে যদি, চাকা ঘোরে কেন নীরবেই?
দেখবে বলেই খুব যে গরীব,
সেও বসে আশা নিয়ে
টেলিভিশন টি আর পি বাড়ায়
সে মুখের ছবি দিয়ে।
“পাব্লিক আয়েশ ” হবে বলেই ত
বুড়ো পোহায় ঝকমারি।
বিশ্বাস নিয়ে শহীদ আর নয়,
ক্লান্তির মহামারী।
কত বছর যে কেটে গেল তবু
খুলছে সময় দ্রৌপদীর শাড়ি
তাও নজির চাই বিশ্বাসের,
রথের চাকায়, “কেবা আগে প্রাণ করিবেক দান
তারি লাগি তাড়াতাড়ি। ”

বেশ চমকিত হলাম।

কালের রথযাত্রার ধ্বনির ফাঁকে দিব্যি ত পুরাণ মহাকাব্য, আধুনিক বিপ্লব, এমনকি বাঙালির নৈকষ্য ; “pun পান ” এর রসও ঝিকঝিক করে জ্বলছে।

রথের দড়িটার একদিক আমরা ধরে বটে, এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু ওরাই।

তাই দীনবন্ধু জগন্নাথকে প্রণাম জানিয়ে তাঁকেই পরিয়ে দিলাম প্রেমের জন্য তুলে রাখা মালাখানা। তিনি ত পুরুষোত্তম, এর কদর বুঝবেন।

তারপর, যোগ করে ফেললাম, আমাদের মানে, পঞ্চাশের রশি ছোঁয়া মানুষদের কথা।

জগবন্ধু

কোন ব্যাপারেই কোন হাত নেই কখনও তোমার

তবু , ব্যথা পেলে আজও
তোমাকেই গালি দিই রাশি

তুমি নিঃশব্দে তাকিয়ে থেকে মালপোয়া প্রসাদ পাঠাও

সকাল সকাল ভোগের রসমালাই

উপোষী পেটের জন্যে পেটভর্তি রাজভোগ আনন্দমেলার।

নাকি একাদশী বাঁধা আছে রথের চাকায় ;
পুরী তাই ডাইনিং রুম।

ছাপান্ন ভোগের সাথে চন্দনের গন্ধ মাখা প্রেম
কি দিয়ে ভোলাবে বল ?
সব শ্রান্তি সব অভিমান
অভিযোগ
শুধু মিষ্টি ? মাধুকরী দিয়ে ?

সমুদ্রের ঢেউ নয় ? অবাধ জলের বুকে ডুব।
কোমল উত্তাপ যার ছুঁয়ে গেল গভীরে গোপন

নোনা জল অন্য গন্ধ জিভের ডগায় থেকে গেল।

ক্ষোভ মুছে , কাটাছেঁড়া মুছে,
সব কষ্ট মুছে দিয়ে,
পীরিতি মোহনভোগ মধু
ফুলের সুবাসমাখা গর্ভগৃহ আর

অহৈতুকী প্রেম ; জগন্নাথ।

 

এবারের রথ যাত্রা

বর্ষা আর বাদলের স্নানযাত্রা এবারেও এলো।
বিষন্ন ধরিত্রীপুরে ঈশ্বরের কোয়ারান্টাইন।
মনে মনে উসখুস,
ল্যাংড়া,হিমসাগর, ফজলি অমৃত
পাঁপরভাজার রথ, মনে মনে যুঁইয়ের বাসর
মেলা ; কার সঙ্গে মেলা? ফোনে আর মনে মনে ছবি।
গান, কানে হেড ফোন, শোনো দিনযাপনের ঢেউ, বান ।
দুরন্ত একান্ত প্রেম মুখোসেও ভিজে আসে সুখে
রুপো মেখে নিলে চুলে বুকের গভীরে দিন গোনো
সময়ের রথযাত্রা, রশি হয়ে বেঁধে রাখে কাল
দিশাহারা ঘর খোঁজে, গতি ক্রমে স্লথ হয়ে আসে
অতীত ও বর্তমান,
জীবনের সমান্তরাল।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।