সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ১৩)

পুপুর ডায়েরি
আমায় যখন ক্রেশে দিতে গেল মা, চারপাশের সবাই অবাক হয়ে বলল, এ আবার কি সাহেবিয়ানা!
আমাদের গলির শেষ প্রান্তে, যে বাড়িতে বাবারা চিরকাল থাকতেন দোতলায় , ঠাকুমাদের শুদ্ধু, সেখানে নিচের ঘরের প্রতিবেশী, বুকুদা ভ্যান্টাদারাও সে বাড়ির ভাড়াটে ছিলো।
ওরা আমাকে ডাকতোই ” বেবি ক্রেশ ” বলে।
একদিন, মা অফিস থেকে আসতে দেরি হলো। রাস্তায় গন্ডগোল। অন্য বাচ্চারা চলে গেলো সবাই কোথায় । এখন বুঝি, নিশ্চয়ই বাড়ির লোক এসে নিয়ে গেছিল। আমি একা একা বড়ো বড়ো ঘরগুলোতে ঘুরে বেড়াতে লাগলাম।
সন্ধ্যে হল। খিদে পেল। মা কত দূর থেকে আসে জানি না তো।
ছাদে গিয়ে কল খুলে দিলাম। আবার বন্ধ করলাম। তারপর সিঁড়িতে এসে কোলাপসিবল গেটটা ধরে বসে রইলাম। তালা দিয়ে গেছে কেউ।
অন্ধকার নামে। কলকাতার শব্দ শোনা যায় আসপাশ থেকে।
আর আমি চুপটি করে বসে থাকি।
মা আসবে।