সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ১)

পুপুর ডায়েরি

১|
একেবারে ছোটবেলা বলতে শিবপুরের হাল্কা একটা ছবি ।একটা লম্বা বারান্দা। আমাদের তিনটে পায়া দেওয়া ফোল্ডিং কাশ্মিরী টেবিলটা । তার পায়াগুলোতে কত সূক্ষ্ম কাঠের কাজ। ওপরটা গোল ।তাতে ও ভারি সুন্দর খোদাই আর ইনলে করা ডিজাইন। ওর পায়াগুলো খুলে বসে হারমোনিয়ামের মত বেলো করার চেষ্টায় থাকতাম বেশ মনে আছে। আর পাশে একটা বড় বাক্সের ওপর গান বাজছে। সে অনেক উঁচু । আমার মাথার ওপরে ।
বক্সের পিছনে গিয়ে অনেক ইনভেস্টিগেট করতাম, গাইছেটা কে?
কিছু গান মনে আছে।
পঙ্কজ মল্লিকের গলায় , “দিনের শেষে ঘুমের দেশে”,
সায়গলের, “তোমার বীণায় গান ছিল”,বোধহয় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া, “ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে…” এই খানে মজার গল্প ছিল। “আড়ালে আড়ালে কোনে কোনে”…বেজে উঠলেই ছোট পুপু লুকিয়ে পড়ে দরজার পিছনে।

বাবা, মা আর আমাদের সংগে থাকা ছোটমামা, হেসে কুটিপাটি।আর তারপর জনে জনে পুপুর বুদ্ধিমত্তার ব্যাখ্যানা।তখন আমি এক থেকে দেড়বছরের মাঝে।

২|
তার পরের পষ্ট ছবিরা শুরু,পু-দাদাদের বাড়ি থেকে।
হ্যাঁ, ফর্সা লম্বা ঘঞ্জ চুল গোঁফ দাড়ির সেই দাদাটার নাম ছিল : পু।
পু-দার বাবার নাম চঞ্চলবাবু।ছোটখাটো গড়নের, খুব ফর্সা কাঁচুমাঁচু মানুষ। আর তাঁর বৌ, ভীষণ রোগা, কিনকিনে গলার আওয়াজ। তিনি চোখের মত টানা টানা ফ্রেমের চশমা পরতেন।

তখন পাড়ার মাইকে কেবলি বাজত “তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি। মা—গো ভাবনা কেন—” সেই গান শুনে শুনে শিখে ফেললাম।
আমার একমাত্র বন্ধু “বা” মানে আমার বাবা আর আমি মিলে খুব গাইতাম এ গানটা কিছু দিন।

তখন আমার জন্য ” ঝুমঝুমি” আসতো। তার মলাটের ওপরে লেখা থাকতো, খুদে পাঠকের খুদে পত্রিকা। পাক্ষিক পত্রিকা।
সরল দে আর গীতা দত্ত সম্পাদক ছিলেন। সে ছোট্ট পত্রিকা যে কি ভালোই ছিলো।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।