সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৮৮)

রেকারিং ডেসিমাল
সেইখান থেকে আবার প্লেনে হইহই করে উঠে পড়া।
নেমেই গোয়ার ঝকঝকে নীল আকাশ।
একখানা মারুতি ভ্যান ভাড়া নিয়েছেন বাবা। যে কদিন গোয়ায় থাকা হবে, এইটাই এই চারজনের বাহন।
চলল গাড়ি হুইস্পারিং পাম বিচ রিসর্টের দিকে।
ঘুম টুম কেটে গিয়ে দিদি এবং ভাইয়ের কি আনন্দ!
একটু পরেই রাস্তার পাশ ধরে দেখা যাচ্ছে ঢেউ।
সমুদ্র! সমুদ্র!
গাড়ির দুদিকের জানালায় নাক ঠেকিয়ে দুই খুদে। চকচক করছে চোখ।
নানান কিছু, সাগরপাড়ের বালি, নারকেল ঝাউগাছের সারি, আর অপূর্ব সব প্রাসাদের মত হোটেলের সামনে দিয়ে ঘুরতে থাকে গাড়ি।
মেয়ের দু বছরের মধ্যে ছেলে হয়ে, তারা একটু বড় হওয়া অব্ধি মা কোন দিকে নিঃশ্বাস নিতে পারেননি। বাবার অবস্থা ও তথৈবচ।
এরা দু জনে কিছুক্ষণের জন্য চুপ হয়ে যাওয়ায় গাড়ির ঠাণ্ডা ভিতরে হেলান দিয়ে কি আরাম।
দু পাশে দুই নরম মানুষের পিঠে হাত রেখে মা ভাবেন, আহা একেবারে সিনেমার মত ভালো লাগছে।
বুকের মধ্যে আনন্দ উপচে উঠলো, লাল টালির ছাদ আর ধবধবে সাদা দেয়ালে ঘেরা মস্ত বাড়ির নুড়িপাথরের ড্রাইভ ওয়ে দিয়ে বিশাল বিশাল লোহার গেট পেরিয়ে গাড়ি ঢুকে পড়ল যখন।
টানা ইতালিয়ান ভিলার মত পেল্লাই মহল। কাঁচের ধোঁয়া ধোঁয়া দরজা জানালা। লাল টালির বারান্দা ছাদ ঘিরে উপচে অজস্র লতা, গাছ, ফার্ণ, রেয়ার অর্কিড।
মাঝখানের বাড়িতেই রিসেপশন, ডাইনিং হল ইত্যাদি। সেখান থেকে চারদিকে কোনাকুনি চলে গেছে প্যাসেজ। দুইতলা প্যাসেজ। একতলা আর নিচেও ছোট ছোট আলো, সুন্দর মূর্তি, রট আয়রনের ফুলের টব, আর গাছ। আর ফুল।
এই রকমই একটা মায়াবী রাস্তা দিয়ে স্টাফকাকু সব সুটকেসপত্র আর পুচকেদের পৌঁছে দিল তাদের নিজস্ব ভিলায়।
গায়ে সোনালি অক্ষরে লেখা ডি থ্রি।
মা চাবি খুলে ঢুকেই এক গাল হাসলেন।
মস্ত সাদা ধবধবে বিছানা।
বাইরের জুতো ক্লোজেটের তলায় খুলিয়েই বাথরুমে হাতমুখ ধুইয়ে দেয়া হল দু জনের।
নরম সাদা সুগন্ধি তোয়ালেতে মুখ মুছেই দু জনে বিছানায় ডাইভ।
বাবা হোটেলের খাতায় সইসাবুদ সেরে এসে পড়েছেন ততক্ষণে।
মাকে ডেকে বললেন, ব্যালকনি, বাথটাব জাকুজি সব দেখে নিয়েছেন ত ম্যাডাম? এই কয় দিনের জন্য এটাই আপনার বাড়ি। চলবে ত?
এক গাল হাসি উত্তরে পেতেই, ক্যামেরা বেরিয়ে এল।
খাটে হেলান দিয়ে পটাপট ছবি।
মায়ের ব্যাক টু অরিজিনাল ড্রেস, লম্বা স্কার্ট আর টি শার্ট। কোলে দিদি সাদা নীল ফুল ফুল ফ্রক, তার কোলে গোলাপি টি শার্ট আর হাফপ্যান্ট ওয়ালা ভাই। সবচেয়ে পিছনে খয়েরী গেঞ্জি আর বারমুডায় বাবা।
আল্লাদে সব্বাই আটখানা।