সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৫৩)

পুপুর ডায়েরি
ছোটবেলা থেকে রচনা লিখছি, আষাঢ় শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল।
এ বছরেও এসেছে বরষা।
তাও ভালো, এখন কোভিডের টিকে পেয়েছে মানুষ।
নইলে কিন্তু গান কবিতা খিচুড়ি ফুলুরি সব আলুনি হয়ে গেছিলো কোভিডের ধাক্কায়।
সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে কি বর্ষামঙ্গল হয় ?
অগত্যা,
চিঠিই লিখি মেঘদূত। মনে মনে।
বাদলার চিঠি
শোনো
আজ তোমায় অনেক আদরের নেমন্তন্ন পাঠালাম
কাজ ফেলে রেখে তাড়াতাড়ি চলে এস
দরজা ত খোলাই থাকে বরাবর
মোলায়েম চাদর পাতা
হাল্কা আলো বেড ল্যাম্পের শেডে
ক্যাসেটে মিঞা কি মল্লার
খিচুড়ি পাঁপরভাজা ঘিয়ের গন্ধ
আর সিল্কের জামা ;
ফিতে বাঁধা থাকলে
খুলতে সুবিধে হয় কি?
বৃষ্টিতে ভিজে এলে স্নান করে নিও
ঠান্ডা লাগবে নয় তো
আচ্ছা আমিও না হয়
ধারাজলের ভাগ নিতে আসব এক ফাঁকে
খিচুড়ি জুড়িয়ে যাবে ?
সে যাক।
এত দিনের না করা আদরের তাপ
মাইক্রোওয়েভের গরমকে অনায়াসে
ছাপিয়ে যাবে জানি।
বরষার মেঘের ওপর
আমার অনেক ভরসা
সেই সেকাল থেকে এই একাল অবধি।