সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৪০)

রেকারিং ডেসিমাল

সেই যে কৃষ্ণের দোকানে কয়লা পাওয়া যেত। যারা নাকি নিচের গ্যারাজে প্রথম এসে দোকান শুরু করেছিলন,আর তার পরে সেইখানেই ছেলে হল অক্ষয়তৃতীয়াতে যার নাম দিদা অক্ষয় থেকে পরে অজয় রেখে দিলেন, সে এখন কালে দিনে বড় ব্যবসায়ী। নিচের গ্যারাজে তার ভাই লক্ষ্মণ দোকান করছে ছেলেপুলে নিয়ে।
কৃষ্ণের ছেলেরা ইস্কুলে কলেজে পড়াশোনা করে গ্র‍্যাজুয়েট ও হল।
তবু বাবার দাপটের সামনে তাদের মুখ তুলে কথা বলার উপায় নেই ।
অজয় বিয়ের পর শিক্ষিত গিন্নীকে নিয়ে নিজের নতুন জায়গা তৈরির লড়াই শুরু করে দিল।
ছোট থেকে বড় মুদিখানার দোকান, একেবারে অচেনা নতুন জায়গায়। যেমন তার বাবা আর রসা রোডের দাদু এককালে জলা জঙ্গল ফাঁকা জায়গায় শুরু করে ছিলেন, তেমনি অজয়বাবু ও একেবারে অচেনা, পুকুর আর গাছ আর কচু পাতায় ঢাকা পর্ণশ্রীতে দোকান খুলে ফেলল।
বাপকে মান্য করে খুব। তাই বাপের নামেই দোকান। কৃষ্ণ স্টোর।
নতুন বউয়ের সাথে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে বিয়ের পর বিকেলে হাঁটতে বেরিয়ে, বর ত অবাক।
আররে এযে কৃষ্ণমোহনের ছেলে!!
দোকানদার ও হাঁক দেয় হই হই করে।
এই এই কুমার, এখানে কি করতে ? এ পাড়ার কাকুর মেয়ের হাত ধরে কেন?
বউ বলে, একে তুমি চেনো ? এ ত, অজয়ের দোকান।
দোকান থেকে ঝুঁকে পড়ে দোকানদার হাসে।
হ্যাঁ ম্যাডাম অজয় কি করে অজয় হল, জিগ্যেস করুন আপনার বরকে।
দেখুন পৃথিবী কত ছোট জায়গা।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।