সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৪৫)

পুপুর ডায়েরি
সেই যে চারু মার্কেট।
এখন গল্প করতে হলে বলতে হবে, এক যে ছিল চারুবাবুর বাজার।
বাস ট্রামের স্টপেজ ও সেই নামেই।
—-চারু মার্কেট নামবো, চারু মার্কেট।
বাজারের মস্ত বাড়িটার মেইন গেটের পাশে, ভেতর দিকে মুখ করে দাঁড়ালে বাঁ হাতে একটা ডাক্তারখানা।
ভট্টাচারিয়া’’স ক্লিনিক, ইংরেজিতে লেখা তার মাথায়।
দু দিকে দুটো কাঠের ভাঁজ করা দরজা।
বিদ্যার্থী রঞ্জন পত্রিকা- র লেখক হিসেবে বাবার অনেকগুলো ছদ্মনাম ছিলো।
সন্দীপন চৌধুরী, কৌশিক গুপ্ত।
আমাদের প্রিয় ডাক্তারবাবু, যিনি বাবা মায়ের খুব বন্ধু, যাঁর ঐ ভট্টাচার্য ক্লিনিক বলে চেম্বার ছিলো, তিনিও লিখেছিলেন বিদ্যার্থী রঞ্জন পত্রিকায়।
ধারাবাহিক সে লেখা, পরে, “ অমৃতস্য পুত্রা: “ বই হিসাবেও প্রকাশিত হয়েছিল।
কী সুন্দর সে বাঁধানো বই।
ডাক্তার বাবুর নাম ছিলো, অরুণ কুমার ভট্টাচার্য।
কিন্তু সান্ডিল্য গোত্রের মানুষ ছিলেন।
তাই বইয়ের লেখক হিসেবে নাম হল সূর্যসারথি বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর গুরু মহারাজের জীবন, স্মৃতি, রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ ভাবধারায় মিশে থাকার আনন্দে, ফুটে উঠেছিল সে বইয়ের পাতায় পাতায়।
ঐ চেম্বারটা ছেলেবেলা থেকে আমার বেশ একটা বেড়ানোর জায়গা ছিলো।
একে তো কেবলই অসুখ বিসুখ করতো।
উফ, কত যে তেতো ওষুধের পুরিয়া খেতাম সে আমিই জানি।