সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৮)

পুপুর ডায়েরি

বাবার কাছে তবলা শিখতেন অনেকেই। সন্তোষকাকু ও ছিলেন সে দলে। তাই ওঁদের বাড়িতে অনেকেই বাবাকে ডাকতেন গুরু। তখন কিন্ত আজকালকার মত বন্ধুদের গুরু ডাকার চল ছিলো না।
দুজনে একসংগে পড়াশুনো ও করতেন। কারন বাবা প্রাইভেটেই পড়ে বাংলা অনার্স উইথ ডিস্টিংশন, স্পেশাল পেপার ইংলিশ নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে ফেলেছিলেন।
তো,দুই বন্ধুর পড়াশুনো হত। ইংরেজির মাস্টার মশাই হতেন আরেক প্রানের টুকরো প্রমোদকাকু।
আবার নানা প্রকার এক্সপেরিমেন্ট ও হত।কখনো তারাপীঠএর শ্মশান, কখনো দক্ষিনেশ্বর,কখনো দেশের বাড়ি কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর। আর সন্তোষকাকুর গাড়ি চালানোর হাত ও শখ দুইই এ ক্লাস, তাই দুই বন্ধুর যথেচ্ছ ঘুরে বেড়ানো।
আমি এসব গল্প শুরু হলেই জানতাম এর পর কনক্লুশানে কি আসবে।
সেই যে,আমার ছোট পিসিমা অপু,মানে অপর্না,যাকে বড় করে আমার বাবাই বিয়ে দিয়ে ছিলেন,তিনি বাড়িতে এসে ছিলেন প্রথম মা হবেন বলে। তা, আমার আভাদিদি যেদিন পৃথিবীতে আসবেন ঠিক করলেন, সেদিন তুমুল বৃষ্টি। রেলব্রিজএর তলায় গলাজল।পিসিমাকে নিয়ে বাবা হাসপাতালে যাবেন কি করে? ছাতা মাথায় প্রায় সাঁতার কেটে সন্তোষকাকুকে ডাকলেন। তারপর দুজনে রাস্তা পেরিয়ে এখন যেখানে ডাইংক্লিনিং আপ্যেরেল,আগে মেলোডির রেকর্ড এর দোকান ছিল,তার পাশের পেট্রলপাম্পএ পৌঁছলেন।সেখানে ও এক হাঁটু জল।ভীষন দুর্যোগ। পাম্পের গাড়ি সব চেক করতে করতে একটি পাওয়া গেলো লক না করা।চাবি শুদ্ধু। কাকুর গাড়ি দুরের কোন গ্যারাজে ছিলো। অত নষ্ট করার মত সময় ছিল না হাতে। সেই অচেনা গাড়ি, পাম্প থেকে চালিয়ে আমাদের রেলব্রিজের গলির শেষ প্রান্তে ঠাকুরমার ঘরের সামনে নিয়ে আসা হল।পিসিমাকে পেছনের সিটে নিয়ে চল্লেন দুই বন্ধু।স্টার্ট বন্ধ করা যাবেনা।তা হলে হয়ত আর চালু হবে না ইঞ্জিন। জল ঠেলে নৌকোর মত পৌঁছেছিল গাড়ি। হাসপাতালে ফুটফুটে মেয়ের মা হয়েছিলেন পিসিমা।
প্রায় ভোর রাতে দুই বন্ধু পাম্পে ফেরত নিয়ে এলেন।বাবা পয়সা দিয়ে পেট্রোল ভরে দিয়ে এসে ঠাকুমাকে সুন্দর নাতনি হবার খবর দিয়ে ছিলেন।
কত কত দিন পর,প্রায় চল্লিশ বছর পরেও বন্ধুর সংগে এই দুরূহ এডভেঞ্চার বাবার চোখের সামনের ভাসে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।