সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৪৩)

পুপুর ডায়েরি
একটু পরে আস্তে আস্তে আমি ছাদে কেটে পড়তাম একা একা ।
আর নিজেকে বলে রাখতাম, আমি বড় হয়ে কখনো ভাড়াটে হব না।
বাড়িতে বাইরের মানুষ এলে বন্ধু পাপু, বাড়িওয়ালা পাপু হয়ে যেতো।
ছোটো পুপু একটু কথাবার্তা বলে দেয়াল ঘেঁষে ঘেঁষে ছাদে কেটে পড়ত আস্তে আস্তে।
গুটি গুটি, একা একা।
চুপ করে খড়খড়ে সিমেন্টের এক বিঘত চওড়া কার্ণিশে মাথা রেখে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতাম। একেবারে ছোটো বেলায়, কার্ণিশ অবধি মাথা পেতাম না।
দেয়াল ধরে এক ইঁটের গাঁথনি ছিলো। তার ওপরে উঠে তারপর কার্ণিশে মাথা কাত করে রেখে দাঁড়াতাম।
বাড়িতে বাইরের লোক না থাকলে, ছাদে পাপু আর আমার কুমির ডাঙা খেলা হত হই হই করে। তখন ঐ উঁচু ইঁটের সারিতেই ডাঙা হত আমাদের।
খাটে একটা কাঠের খাট না তক্তাপোশ জাতীয় রাখা ছিলো। লোহার ফ্রেমে, লম্বা লম্বা কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরী। খেলে খেলে ক্লান্ত হয়ে, আমরা, ঐ খাটে শুয়ে, বসে, হাঁফাতাম, জিরোতাম।
সন্ধ্যে নামলে আকাশে তারা ফুটছে, এ চিত হয়ে শুয়ে দেখতে ভারি মজা।
আর ছাদ থেকে, নীচে থেকে, সব জায়গা থেকে সব সময় দেখা যায়, রেল লাইন ধরে ট্রেন চলেছে।
সব সময় ট্রেন চলার শব্দ শুনেই ছোটো থেকে বড়ো হলাম।