।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় রাজীব সিংহ

একটি উপন্যাস ও জাহাজবাড়ি

এখানেই পড়ে ছিল সরোজিনী কুমুদ ও কুন্দনন্দিনীর
অকপট স্বীকারোক্তি অথবা চেনামুহূর্তরা,
বিলাসী রোদের অকারণ প্রাবল্য বিস্তার৷
সংযমে ওমজবাকুসুমশঙ্কাশং ক্রমশ স্বেদ ও ঘ্রাণের
পরিপন্থী হয়ে উঠলে একক দুপুর আর একক রাত্রিগুলি
বিরাট ময়াল সাপের মতো দিগন্ত গ্রাস করতে করতে
মৃত্যুর পরের কিছু অজানা প্রশ্ণমালার সামনে
উত্তরপত্র হাতে দাঁড় করিয়ে দেয়৷
এক উন্মাদের কতো না বাহার, চিত্রকলা, চিত্ররূপময়তা!
সমস্তদিন ফকির আর বাউলসঙ্গ করতে করতে কুন্দনন্দিনীর
আকন্ঠ তৃষ্ণা এই মধ্যরাতে জিপসিদের তাঁবুর মতো এই জাহাজবাড়িতে
তাকে ঘুমোতে দেয় না৷
সরোজিনী কুমুদ ও অন্যান্য ছায়ারা কখন চরিত্র হয়ে সিলেবাসে জড়িয়ে পড়েছে৷
দূর থেকে ভেসে আসে সেই সম্পর্কবহির্ভূত বাঁশির সুর৷
সমস্ত সংযম ভুলে সমস্ত জাগতিকতা ভুলে
এখন মৃত্যুকে বলবে কী কুন্দনন্দিনী সেই তৃষ্ণার আয়োজন!
সেই আশ্চর্য জাহাজবাড়ি তখন ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে মাঘের কুয়াশায়…
অজয় নদের তীরে…
ফকিরের তমালতলায়…
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।