এখানেই পড়ে ছিল সরোজিনী কুমুদ ও কুন্দনন্দিনীর
অকপট স্বীকারোক্তি অথবা চেনামুহূর্তরা,
বিলাসী রোদের অকারণ প্রাবল্য বিস্তার৷
সংযমে ওমজবাকুসুমশঙ্কাশং ক্রমশ স্বেদ ও ঘ্রাণের
পরিপন্থী হয়ে উঠলে একক দুপুর আর একক রাত্রিগুলি
বিরাট ময়াল সাপের মতো দিগন্ত গ্রাস করতে করতে
মৃত্যুর পরের কিছু অজানা প্রশ্ণমালার সামনে
উত্তরপত্র হাতে দাঁড় করিয়ে দেয়৷
এক উন্মাদের কতো না বাহার, চিত্রকলা, চিত্ররূপময়তা!
সমস্তদিন ফকির আর বাউলসঙ্গ করতে করতে কুন্দনন্দিনীর
আকন্ঠ তৃষ্ণা এই মধ্যরাতে জিপসিদের তাঁবুর মতো এই জাহাজবাড়িতে
তাকে ঘুমোতে দেয় না৷
সরোজিনী কুমুদ ও অন্যান্য ছায়ারা কখন চরিত্র হয়ে সিলেবাসে জড়িয়ে পড়েছে৷
দূর থেকে ভেসে আসে সেই সম্পর্কবহির্ভূত বাঁশির সুর৷
সমস্ত সংযম ভুলে সমস্ত জাগতিকতা ভুলে
এখন মৃত্যুকে বলবে কী কুন্দনন্দিনী সেই তৃষ্ণার আয়োজন!
সেই আশ্চর্য জাহাজবাড়ি তখন ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে মাঘের কুয়াশায়…
অজয় নদের তীরে…
ফকিরের তমালতলায়…