|| শাম্ভবী সংখ্যা ২০২১ || T3 শারদ সংখ্যায় রূপক সান্যাল

বালু ঘড়ি
একটা বালুঘড়ি আমাকে কতকিছুই শিখিয়ে দেয়
টেবিলের ওপর রাখা একটা বালুঘড়ি—
বেশ পরিপাটি, সুন্দর ঝকঝকে
ঘড়িটার ওপরের পাত্রটি থেকে বালুর কণাগুলো
ধীরে ধীরে নেমে আসছে নিচের পাত্রে …
এটাই নিয়ম, এটাই স্বাভাবিক বলে জানি
একসময় ওপরের পাত্র শূন্য হয়ে যায়,
পূর্ণ হয় নিচেরটি— এরকম হবারই কথা ছিল,
এর আগে যাঁরা এই পথ দিয়ে হেঁটে গেছেন
তাঁদের কেউ কেউ এরকম কথাই বলেছিলেন বটে
এবার আমি ঘড়িটা উল্টে দিলাম,
আবার সেই একই প্রক্রিয়া চলতে থাকলো-
শুধু ওপরের পাত্রটা নিচে চলে গেছে, আর
নিচেরটা ওপরে — বালুকণাগুলো একই আছে,
একই আছে তাদের গতিপথ—
ওপর থেকে নিচে, ঢালু পথে, সবাই যেদিকে যেতে চায় …
বালুর কণাগুলোও বিভ্রান্ত, ঠিক কোন পাত্রটা
তাদের পক্ষে উপুযুক্ত, বুঝেই উঠতে পারছে না
ঘড়িটার ভেতরে ঢুকে পড়তে আমার খুব ইচ্ছে হয়
ইচ্ছে হয়, বদলে দিই বালুগুলো, পাল্টে দিই পাত্রের গঠন—
কিন্তু আমার সে ক্ষমতা নেই, সাহস নেই, শক্তি নেই
যদি থাকতো, তবে থামিয়ে দিতাম বালুঘড়ির একঘেয়ে খেলা—
থামিয়ে দিতাম, আসলে একটাই যন্ত্রের ভেতর
আপাতদৃষ্টিতে বিপরীতমুখী
দুইটি অবস্থানের আভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া
একটা বালুঘড়ি আমাকে কতকিছুই শিখিয়ে দিয়ে যায়
নিরীহ বলুকণাগুলি একটু স্থিতাবস্থার প্রত্যাশায়
পাত্রদুটির ক্রীড়ণক হয়ে কেবলই নিম্নগামী হয়
ঢালু পথে ওরা কেবলই নিম্নগামী হয়