|| শাম্ভবী সংখ্যা ২০২১ || T3 শারদ সংখ্যায় ঋত্বিক সেনগুপ্ত

কানাই দাস গত তিরিশ বছর ধরে কলকাতা যাতায়াত করে, বছরে দুইবার। এখন বয়স চুয়াল্লিশ – তার বাবার হাত ধরে, প্রথমবার এসেছিল, যখন তার বয়স চোদ্দ। সেই প্রথম কলকাতায় দুর্গাপুজো দেখা। তারপরে কালীপুজোতে আবার শহরে আসা। সেই থেকে, প্রতিবছর ওই দুর্গাপুজো ও কালীপুজোতে ঢাক বাজাতে কলকাতায় আসে। জিজ্ঞেস করলে বলে, “ঘরের লােক ওই গ্রামের পুজোটাই বেশী পছন্দ করে, তবে আপনাদের এই শহরের পুজোতে, মােচ্ছব অনেক বেশী, মেলার মতন, কত মানুষ কত কাজে আসে, সুখ-দুখ নিয়েই মন্ডপে আসে, কিন্তু সবাই হাসিমুখে মাকে পেন্নাম করে, আরতির সময় নাচতে থাকে – এমনটি আমাদের গ্রামের পুজোতে হয়না বাবু”।
মনে পড়ছে, জিগেস করেছিলাম তাকে, “আপনাদের গ্রামের পুজোতে ভিন্ন কী?”
কানাই বললে, ” এই যেমন ধরেন এতাে আলাের মালা নেই, এতাে রঙিন কাপড় নেই, তবে মন্ডপে গিয়ে যদি বসাে বাবু প্রতিমার থেকে চোখ সরাতে মন করেনা, এই এখেনে যেমন ওই ধারটাতে বড় মন্ডপে করে গান বাজনা হয়, তখন দেখি সব বাচ্চা বুড়াে মায়ের মূর্তির দিকে পিছন ফিরে বসে, আমাদের পাড়া-গাঁয়ে অমন কেউ ঠাকুরের দিকে পিছন ফিরে থাকে না; তখন সকলকে দেখে লাগে যেন এই পুজো মন্ডপে অভিনয় চলছে শুধু ঠাকুরের কথা যেন মনে নেই কারাে! তবে আমাদের সেখানে ও থেটারের মন্ডপে ওই মাঠেই হয় অন্যদিকে- যে দেখবে দেখাে গিয়ে, পুজো করতে এসেছাে, তাে সেখানে মায়ের সামনে অভিনয় কিসের? “

আমি একটু ঠাট্টা করে বললাম, “আমাদের পুজোতে তােমার মন লাগে না তাহলে?”
বললে, “না লাগলে চলে বাবু, রােজগার করতে গেলে মন লাগাতে হয়; আরাে একটা কথা, এই মা-দুঙ্গা যেমন পাঁচটি দিন আমােদ করতে আসে, আমার ছেলেপিলের মা যে, তারও বছরে কটা দিন একটু আলগা থাকতে লাগে, আমরা ঘরে থাকলে তাে সেটি হবেনা বাব! তাে দম পাবে কি করে?” “হক কথা কানাইদা, বুঝতে পারলাম, মনে রাখবাে”।
মন্ডপে তাকিয়ে দেখলাম গৃহিণীরা অনেকে পুস্পাঞ্জলি দিতে এসেছেন- কেউ কেউ কানাইদার কথামতাে, আলগাসঙ্গলাভে আঁটোসাটো।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।