ওখানে ট্রেনের শরীর টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।
কামড়াগুলো যে যার মতো পড়ে গেছে খাদে
রুহুগুলো উড়ে গেছে আবাবিলের ডানায় কিংবা জলপাইয়ের পাতায় চড়ে।
আঙুলের ডগা থেকে রক্তাক্ত ঢেউয়ের করুণ আর্তনাদে
চারপাশে নেমেছে অমাবশ্যার মতো গাঢ় কালো আকাশ।
চোখের নীল আলোর স্বপ্নরা মাটির শরীরে মিশে গ্যাছে,
নিউরন ডুবে গেছে অথৈ সাগরে।
এখানে আমি পাকা ডালিমের মতো বেঁচে গেছি
কিন্তু রসুনের কোয়ার মতো কারা যেন জড়িয়ে রেখেছে আমায়।
ওদের আমি ডাকছি। আমাকে শোনে না ওরা।
ইতিমধ্যে চোখগুলো হলুদ কিংবা তামাটে হয়ে গেছে।
মানুষের মিছিলে আমার পা গুলো চলছে না।
হাত পাচ্ছে না হাতের স্পর্শ।
ভেবেছিলাম উড়ে যাওয়া রুহগুলো ধরে এনে
শরীরের সাথে সুই-সুতা দিয়ে সেলাই করবো।
কিন্তু আমার এখানে দেবদারুর মতো শুন্যতার বাস।
ধুতুরার মতো এই সকালকে আমি ঘৃণা করি।
খানিক পরে কুয়াশার অই পাড় থেকে রোনার্ত
আহাজারি করে ছুটে আসে আমার জন্মদাতারা।
চোখে ঘূর্ণিঝড় ও কন্ঠে বাঘের গর্জনের মতো
আর্তনাদ নিয়ে হরিণ শাবকের মতো ছুটে আসছে আমার দিকে।
আর আমি ওদের দিকে।
মৃত্যুর মিছিলে ওরা আমাকে খুঁজছে।
একশোটি শরীর তন্ন তন্ন করে খোঁজার পরেও আমায় পেলো না।
আমি এত্ত করে ডাকলাম!
আমার শরীর বরফের মতো শীতল
আমি আবাবিলের ডানায় চড়ে নীল সাগড়ের
এক কোটি সিড়ি পেরিয়ে
উড়ে যাচ্ছি অজানা এক দরজার দিকে।
পূর্বপুরুষেরা আমাকে ডাকছে।
আমি অই দিকে যাচ্ছি।
আমাকে ছেড়ে দাও মা।