কবিতায় স্বর্ণযুগে রথীন পার্থ মণ্ডল (গুচ্ছ কবিতা)

দশটি পঞ্চবাণ কবিতা
১. শরৎ শুধু শরৎ
শরতের মাঝে শরতের করেছি খোঁজ
মনের মাঝে তোমায় দেখেছি রোজ
মহেশ হয়ে ছুটেছি পথের দাবীতে
স্নান করেছি রোজ তোমার আলোতে
মন শুধু চায় শরৎ, শরৎ…
২. তোমার সাথে
তোমার স্রোতে বয়ে যায় উপন্যাস
তোমার কাছেই বেঁচে থাকার শ্বাস
তোমার লেখা বেঁধে দেয় রাখি
তোমার জন্যই বাঁচার আশা রাখি
তোমার জন্যই এক হই রোজ।
৩. সুরের সরস্বতী
দুপুরের খেয়াল শেষ হয় সন্ধ্যায়
জীবনের হরবোলায় খুঁজে বেড়াই তোমায়
আমি অনবরত সাধনা করি তোমার
আর চলেছি অনন্তের পথ ধরে
শুধু খুঁজে যাই সুরের সরস্বতীকে।
৪. আমার দুর্গা
আমার দুর্গা প্রকৃতি মাঠে হাটে
আমার দুর্গা ছোটে পথে ঘাটে
আমার দুর্গা প্রতিবাদ করে প্রতিবাদী
আমার দুর্গা অসহায় মানুষের সাথী
আমার দুর্গা দশভুজা সব সংসারে।
৫. ফিরে এসো তুমি
পাহাড় পেরিয়েছি তোমার হাত ধরে
জীবনে জীবন চেয়েছি তোমার কাছে
মরার কথা ভুলে বাঁচতে চেয়েছি
বিরহের কথা ভুলে প্রেমিক হয়েছি
সব জীবনেই এসো তুমি, বসন্ত।
৬. মোহনামুখী অভিমান
চিরকালই মোহনার দিকে চেয়েছো তুমি
উৎসের দিকে আসতে বলা সত্ত্বেও
আর কত অপেক্ষা করতে হবে
বলতে পারো আমার প্রিয় অভিমান ?
উত্তর খুঁজতে খুঁজতে হাঁপিয়ে উঠেছি।
৭. বেঁচে থাকো কবিতা
তোমার আঁচলে খুঁজে বেড়াই শান্তি
তোমার আঁচলে লুকিয়ে রেখেছি অভিমান
মান অভিমানের খেলা চলতে চলতে
একদিন শেষ হয়ে যায় জীবন
গোপনে গোপন হয়ে বাঁচো, কবিতা।
৮. আগুন, জ্বালাও আমায়
আগুনের সাথে আলাপী হই আজও
গনগনে আঁচে ফুটন্ত অপরাহ্ন বেলায়
বিনা মাইনের চাকরিতে ইস্তফা দিই
গঙ্গার ঘাটে বসে নৌকাডুবি দেখি
শীতঘুমে রয়েছি, আগুনই পারে জ্বালাতে।
৯. জলছবি
নীল আকাশে মেঘ ভেসে যায়
ভেসে চলে যায় শান্তির পায়রা
বাঁধা থাকে পায়ে মৈত্রীর চিঠি
আর বাঁধা থাকে শান্তির মালা
তাতেই আঁকা হোক অধ্যায়ের জলছবি।
১০. তুমি থাকো সাথে
বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে এগিয়ে যাই
তোমাকে সাথে নিয়ে অজানা পথে
মেঘলা মনে ভাবি শুধু তোমাকে
অবিরাম ঝরে বৃষ্টি নদীর মতো
তুমি থাকো আজও আমার সাথে।