গল্পেরা জোনাকি তে রীতা পাল (ছোট গল্প সিরিজ)

অসমাপ্ত গল্প
সানাই এর সুরটা কানে আসতেই,আলাপ কানে একটা বালিশ চেপে ঘুরে শুলো। ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়া।
“ কি রে আলাপ,আর কতক্ষণ ঘুমাবি? ওঠ। অন্তরাদের বাড়ি যাবি না? ও সকালে এসে একবার ঘুরে গেছে।” মা’র গলা শুনেই ধড়ফড় করে বিছানা ছেড়ে উঠলো। রাগ সঙ্গীত ওর ভীষণ প্রিয়। কিন্তু আজ সানাই এর সুরটা বড় কর্কশ লাগছে। বিছানা ছেড়ে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই চমকে উঠলো। সিঁথি ভর্তি সিঁদুরে রাঙা হয়ে মিটিমিটি হাসছে অন্তরা। বাথরুমে গিয়ে চোখে-মুখে জল ছিটাতেই অন্তরার মুখটা আবার ভেসে উঠলো।
সেদিন অফিসের একটা প্রজেক্ট নিয়ে অনেক রাত অব্দি কাজ করছিল আলাপ। পরের দিন অন্তরা সকালবেলা এসে দেখে কম্বল মুড়ি দিয়ে বাবু ঘুমাচ্ছেন। অন্তরা ঠান্ডা জল নিয়ে আলাপের চোখে-মুখে ছিটিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে আলাপ অন্তরার হাতটা ধরে এক ঝটকায় কম্বলের মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়েছিল। বুকের মধ্যে জড়িয়ে নিয়ে ঠোঁটের কাছে মুখটা নিয়ে বলেছিল,“ আমায় আর কত জ্বালাবি তুই? কবে বিদায় হবি রে? আমি একটু শান্তিতে ভোরের ঘুমটা ঘুমাতে পারবো।”
অন্তরার গরম নিঃশ্বাস ছুঁয়ে যাচ্ছিল আলাপকে। আরো জড়িয়ে ধরে অন্তরা বলেছিল,“ আমি বুঝি শুধু তোকে জ্বালাই! আমি চলে গেলে তুই খুশি হবি? আজ আমায় দেখতে আসছে।”
আলাপ তাড়াতাড়ি অন্তরাকে ছেড়ে দিয়ে বলে উঠলো,“ মাগো মা। জয় মা তারা। আমার কথা তুমি শুনেছ। এই পেত্নীটাকে যার হোক ঘাড়ে তুমি চাপিয়ে দাও। আমি মুক্তি পাই। এবার যা, আমি একটু ঘুমাই।”
“ আমায় বিয়ে করবি?”
আলাপের ঘুম এবার চটকে গেল। “ তোর কি মাথাটা গেছে? তোর মত পাগলিকে আমি বিয়ে করবো! দুগ্গা দুগ্গা বলে শ্বশুর বাড়ি যা। আমি মাঝে মাঝে দেখা করে আসবো। আজ আমি ভুবনেশ্বর যাচ্ছি। তোর হাত থেকে ছমাসের মুক্তি। বিয়ে ঠিক হলে জানাস।” চুপচাপ চলে গেছিল অন্তরা।
চতুর্দিক থেকে শঙ্খ বাজছে। উলুর ধ্বনি। হলুদ শাড়িতে বেশ মানিয়েছে অন্তরাকে। সারা গায়ে মুখে হলুদ মাখা। অন্তরা দৌড়ে এসে আলাপের সারা মুখে হলুদ মাখিয়ে দিল। আলাপ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে অন্তরার দিকে। হাসতে হাসতে অন্তরা বলল,“ আমার হাত থেকে তোর মুক্তি নেই।”
আলাপের বুকের বা দিকটায় কেমন একটা চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে। একটা পাহাড় নিঃশব্দে ভাঙছে। পাহাড়ের বুক চিড়ে নদীটা এগিয়ে চলেছে সাগরের দিকে।