T3 || ঘুড়ি || সংখ্যায় রীতা পাল

চাঁদিয়াল

 

ছাদে উঠে আকাশে ঘুড়ির খেলা দেখা অপুর এখন নেশা হয়ে গেছে। বিকালে ছাদে উঠেই অপু আকাশের দিকে তাকালো। আজও আকাশে কত রং বেরঙের ঘুড়ি উড়ছে। হঠাৎ চিৎকার ‘ভোকাট্টা’। ছ’বছরের ছোট্ট অপু না বুঝেই চিৎকার করে উঠলো ‘ভোকাট্টা’। অপু হা করে তাকিয়ে দেখে একটা ঘুড়ি কেমন নিজেকে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিয়েছে, সে আর কারো কথাই শুনছে না। যেদিকে মন চায় উড়ে চলেছে। ওর পায়ের সামনে দিয়ে সরসর করে সুতো চলে যেতে লাগলো। ও এবার বুঝতে পারল ঘুড়িটা কেটে গেছে। আবারো চিৎকার ‘ভোকাট্টা’। অপু ছাদ থেকে নিচের দিকে তাকাতেই দেখল কতগুলো ছেলে গলি দিয়ে দৌড়াচ্ছে। তাদের চোখ কেটে যাওয়া ঘুড়ির দিকে। অপুর খুব ইচ্ছে করছিল ওদের মতো দৌড়ে ঘুড়ি ধরবে। অপু দৌড়ে মায়ের কাছে চলে গেল। মাকে গলা জড়িয়ে বলল,” মা আমাকে একটা ঘুড়ি-লাটাই কিনে দেবে?” মা প্রথমে চুপ করে রইল। অপু বারবার একই কথা বলে যাচ্ছিল। বাধ্য হয়ে অপুর মা বলল, “না। একদম না। যাও পড়তে বসো। ভালো ছেলেরা ঘুড়ি ওড়ায় না। তোমাকে অনেক বড় হতে হবে.” “তোমাকে দিতে হবে না। বাবা ফিরে আসুক আমি বাবার থেকে নিয়ে নেব।” বলেই চোখ মুছতে মুছতে পড়ার ঘরের দিকে চলে গেল। অপুর মা একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল। মনে মনে বলল- তুই তো জানিস না অপু। তোর বাবা না ফেরার দেশে চলে গেছে। সে আর কখনোই ফিরবে না।
রাতে অপু স্বপ্ন দেখল,অপুর ঘুড়িটা উড়তে উড়তে মেঘের দেশে চলে যাচ্ছে। ঘুম ভাঙতেই অপু ছাদে চলে গেল। দেখলো ছাদে কত কাটা ঘুড়ির সুতো পড়ে রয়েছে। ও একটা লাঠির মধ্যে সুতোগুলো জড়িয়ে চিলেকোঠার ঘরে রেখে স্কুলে গেল। এই ভাবেই দিনের পর দিন অপু সুতো জমাতে লাগলো। একদিন বিকেলে একটা কাটা ঘুড়ি এসে অপুর ছাদে পডল। অপুর কি আনন্দ! জমা করার সুতোগুলোই গিট বেঁধে বেঁধে শুরু হলো অপুর ঘুড়ি ওড়ানো। কিন্তু সুতোতে যে গিট বাঁধা। ঘুড়ি খালি এদিক-ওদিক গোত্তা খেতে লাগলো। এভাবেই শুরু হয় অপুর ঘুড়ি ওড়ানো। এখন অপু শিখে গেছে ভাত দিয়ে কিভাবে ছেঁড়া ঘুড়ি জুড়তে হয়। আশপাশের উঁচু ছাদ থেকে সবাই হাসাহাসি করে অপুর ঘুড়ি ওড়ানো দেখে। কারণ অপুর ঘুড়ি তো আকাশে উড়ে না।
আজ একটা কান্ড ঘটলো। একটা বড় চাঁদিয়াল ঘুড়ি অনেকটা সুতো নিয়ে অপুর মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। অপু এই সুযোগ হাতছাড়া করলো না। লাফিয়ে কাটা ঘুড়ির সুতোটা ধরে ফেলল। ঘুড়িটায় অনেক সুতো। সেই সুতোর সাথে জুড়ে দিল রোজকার কাটা ঘুড়ির সুতো। অপু লাফাচ্ছে,হাসছে। অপুর আজ দারুণ আনন্দ। অপুর ঘুড়ি সত্যি সত্যি মেঘের দেশে পাড়ি দিয়েছে।।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।