সম্পাদকীয়

“ আকাশ ঘিরে মেঘ করেছে
সুয্যি গেছে পাটে।
খুকু গেল জল আনতে
পদ্মদিঘির ঘাটে।
পদ্মদিঘির কালো জলে
হরেক রকম ফুল।
হাঁটুর নিচে দুলছে খুকুর
গোছা ভরা চুল। ”
সারা পৃথিবীতে বর্ষার বৃষ্টি নিয়ে এত কবিতা-ছড়া রয়েছে যে কল্পনাও করা যায় না। প্রেমের হোক বা বিরহের। আকাশে মেঘ দেখলেই সবার আগে আমার যে ছড়াটা মনে পড়ে তা হল রবি ঠাকুরের এই ছড়াটি। চোখের সামনে ভেসে ওঠে কলসি কাঁখে ছোট্ট খুকুর মুখ।
বর্ষা মানেই রাস্তার দু’ধারে ছড়িয়ে থাকা কদম ফুল,দোলনচাঁপা,কামিনীর গন্ধ। উতলা বাতাস। গ্রীষ্মে উত্তপ্ত ধরণী তৃপ্ত হয় ধরা স্নানে। শুকনো নদীগুলো ফিরে পায় যৌবনের উদ্যমতা। তাদের শরীরে খেলা করে জোয়ার- ভাটা। শরীরে হিল্লোল তুলে বয়ে যায় মাইলের পর মাইল। রুক্ষ গাছ সবুজ হয়ে ওঠে। মাটি হয়ে ওঠে গর্ভবতী। ফসলে ভরে ওঠে ক্ষেতের পর ক্ষেত। তাইতো জীবনের আরেক নাম বহতা নদী।
বর্ষার মেঘ দেখে কবির কলমে কবিতা আসে। মিলনের জন্য ময়ূর হয়ে যায় ব্যস্ত। ডাহুক,জলপিপি,গাঙ শালিক ব্যস্ত হয়ে পড়ে সংসারের টানে। ওদের ঘর হয়, ছানাপোনা হয় আবার উড়ে যায় ঐ নীল আকাশে। আর খোলা আকাশের নিচে যারা থাকে তাদের কাছে বর্ষাকালটা খুব কষ্টের। ওদের মরচে পরা জীবনগুলো আরো বেশি একঘেয়ে হয়ে পড়ে। জন্ম নেয় শ্যাওলা।
শেষ করব কবির সেই বর্ষার গান দিয়ে-
“ পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে পাগল আমার মন জেগে ওঠে–”
রীতা পাল