সম্পাদকীয়

বর্ষায় রুপসী বাংলা আরও মোহময়ী হয়ে ওঠে। ফিরছিলাম বকখালি থেকে। জানলা দিয়ে দেখছি বর্ষার রূপ। গাছপালা সব ধারাস্নানে ব্যস্ত। খাল-বিল-মাঠ সব জল থৈ থৈ। ট্রেন ছুটে চলেছে নিজের গতিতে। একটা শাপলা বিলের দিকে চোখ পড়তেই দেখতে পেলাম তাকে। শাপলা পাতার মধ্যে অতি সন্তর্পনে পা ফেলে হেঁটে চলেছে। কতদিন পর যে তাকে দেখলাম! কে সে? সে আর কেউ নয়,জল ময়ূর। অত্যন্ত সুন্দর দেখতে। গ্রামবাংলায় যারা থাকেন তারা দেখেছেন। প্রজননকারী পাখির মাথা-গলা ও ডানার পালক সাদা থাকে। ঘাড় সোনালী। হলুদ পিঠে গাড়ো বাদামি রং। বুক-পেটের কালচে খয়রি রেখা মাথা, ঘাড় ও গলার সাদা ও সোনালী হলুদ রং কে পৃথক করেছে। ঠোঁট নিলচে হয়। চোখ বাদামি। পা নীলাভো কালচে হয়। সব পাখিদের থেকে এরা একটু আলাদা। প্রজননকালে পুরুষ শাপলা ও পদ্ম পাতায় বা এ জাতীয় ভাসমান কোনো উদ্ভিদের পাতার উপর বাসা বানায়। স্ত্রী এতে চারটি জলপাই রং এর ডিম পেড়ে চলে যায়। পুরুষ একাই ডিমে ২৩ থেকে ২৬ দিন তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। ডিম ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ছানাগুলো হাঁটতে‘সাঁতরাতে ও ডুব দিতে পারে। প্রায় দুই মাস পর্যন্ত বাবার তত্ত্বাবধানেই থাকে।
রীতা পাল