সম্পাদকীয়

“আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে -”

আমাদের ভালোবাসার ট্রেন মাঝে মধ্যেই দূর্ঘটনার শিকার হয়। ফলে অকালে ঝরে যায় তাজা প্রাণ। ফিরে দেখা মারাত্মক ট্রেন দুর্ঘটনা।
শতকের ভয়াবহ রেল বিপর্যয় উড়িষ্যার বালেশ্বরে। বাহানগা স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনা। দেশলাইয়ের খোলের মতো লন্ডভন্ড কামরা। লাইনচ্যুত তিনটি ট্রেন। করমন্ডল, যশবন্তপুর এক্সপ্রেসের অধিকাংশ বগি দূর্ঘটনার কবলে। দূর্ঘটনা গ্রস্থ মালগাড়িও। তবে এই প্রথমবার নয় অতীতেও দেশ সাক্ষী থেকে গেছে ভয়ংকর সব রেল দুর্ঘটনার। ১৯৮১ সালের বিহারে ট্রেন দূর্ঘটনা। ৯০০ জন যাত্রীকে নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিহারের সহরসার কাছে বাঘমতি নদীতে ডুবে যায়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ৭৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যান। এটি ভারতে তথা বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দূর্ঘটনাগুলির মধ্যে একটি। উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা কালিন্দী এক্সপ্রেস এ ধাক্কা মারে দিল্লি গ্রামে যাত্রীবাহী পুরুষোত্তম এক্সপ্রেস। ওই ঘটনায় ৩৫৮ জন মানুষ মারা যান। একটি গরুকে ধাক্কা দেয়ার পর ব্রেক ফেল করে কালিন্দী এক্সপ্রেস ট্রাকে আটকে যায়। অসমের গাইসালের কাছে আড়াই হাজারেরও বেশি যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিল দুটি ট্রেন। অবোধ-অসম-এক্সপ্রেস এবং ব্রহ্মপুত্র মেল এর মধ্যে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল ২৬৮ জনের। আহত হয়েছিল ৩৫৯ জন। দূর্ঘটনার ভয়াবহতা এমনই ছিল যে অবোধ-আসাম ট্রেনের ইঞ্জিনটি অনেক দূরে ছিটকে পড়েছিল। এমনকি দুটি ট্রেনের যাত্রীরা লোকালয় থেকে অনেক দূরে ছিটকে পড়েছিলেন।
আমাদের সচেতনতা আরো বাড়তে হবে। এমন দূর্ঘটনা আর না হয়। মৃত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনা করি।

রীতা পাল

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।