গল্পেরা জোনাকি তে রীতা পাল (ছোট গল্প সিরিজ)

বাজ বাহাদুর

আনন্দে টিটো,টুয়ার তো আর ঘুম আসছে না। ওদের মামাবাবু কর্নেল রুদ্রনীল রায় ১৫ দিনের ছুটি কাটাতে ভাগ্না-ভাগ্নিদের কাছে আসছেন। মামাবাবু আসা মানেই জঙ্গলে ঘুরতে যাওয়া,রহস্য-রোমাঞ্চে কাটানো কয়েকটা দিন। টিটো টুয়াকে ডেকে বলল,“ কিরে,এবার মামাবাবু আসলে কোথায় যাওয়া হবে বলতো!” টুয়া, “ আগে মামাবাবু আসুক তারপর ঠিক করা যাবে। আগেরবার তাড়াতাড়ি মামাবাবু ফিরে গেছিল। বীর বাহাদুরের গল্প শোনা হয়নি। এইবার আর ছাড়বো না। আগে গল্প শুনবো তারপর অন্য কিছু।”
ভাই-বোন কখন ঘুমিয়ে পড়েছে। ভোরবেলা মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙলো।“ শিঘ্রী ওঠ,দেখ মামা এসে গেছে।” টিটো টুয়া ধড়পড় করে বিছানা ছেড়ে উঠলো। দেখল বাগানে মামা বাবার সাথে বসে চা খাচ্ছে। ওদের দেখেই মামাবাবু হাত নাড়ালেন। বললেন,“ ফ্রেস হয়ে আয়। তোদের জন্য ভালো ভালো গল্পের বই এনেছি। ভাগ করে নিস।” টুয়া,“ মামা আগে কিন্তু বীর বাহাদুরের গল্প শোনাতে হবে।” কর্নেল রুদ্রনীল হেসে উঠলেন। বললেন, “গরমের ছুটি তো পড়ে গেছে। দুপুরে পড়াশোনা শেষ করে রাতে আমার ঘরে আসিস। আজই গল্পটা শেষ করব।”

কর্নেল ফ্রেস হয়ে বেড়িয়ে গেলেন এক বন্ধুর বাড়ি। ওখান থেকে কিছু অফিসিয়াল কাজকর্ম সেরে আটটার সময় বাড়ি ফিরলেন। কর্নেল ন’টার মধ্যে ডিনার করে শুতে যান। আজ টিটো,টুয়াও মামার সাথে ডিনার সেরে ফেলল। টুয়ার তো আর তর সইছে না। “মামা এবার শুরু করো।”
কর্নেল মুচকি হেসে শুরু করলেন, “ আমি যখন জয়পুরে পোস্টিং ছিলাম তখন আর্মির ব্রিগেডিয়ার দেব বর্মন এর সাথে পরিচয় হয়। খুব হাসিখুশি আর সুন্দর স্বভাবের জন্য অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই আমাদের বন্ধুত্ব হয়ে যায়। প্রায় এক বছর পর ওর আলাদা জায়গায় পোস্টিং হয়ে যায়। বেশ কিছুদিন যোগাযোগ ছিল না। আমি কয়েকদিনের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলাম। একদিন দুপুরে একটা টেলিগ্রাম এল। দেখি দেব বর্মনের- কর্নেল আমাদের পরিবার একটা ভয়ঙ্কর বিপদের সন্মুখিন। আপনি যদি আসেন তো খুব ভালো হয়। ঠিকানা ও ফোন নাম্বার দিয়ে দিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করলাম। দেবই ফোনটা ধরলো। বলল,‘ স্যার একবার আলিপুরদুয়ার আসুন। আমি জানি স্যার আপনি ছুটিতে আছেন।’ ওর কথায় এমন একটা যন্ত্রণা অনুভব করলাম যে বললাম, ‘ ঠিক আছে যাবার আগে তোমাকে জানিয়ে দেবো।’
দুদিনের মধ্যে একটা টিকিট কেটে নর্থ বেঙ্গলে রওনা দিলাম। রাতের ট্রেন। সকাল দশটা নাগাদ ফালাকাটায় পৌছালাম। স্টেশনে নেমে দেখি দেব জিপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দু’পাশে চায়ের বাগান। যেন মনে হচ্ছে সবুজ গালিচা ভেদ করে আমাদের গাড়িটা এগিয়ে চলেছে। মিনিট কুড়ি যাবার পর একটা সুন্দর কাঠের বাংলোর কাছে গাড়িটা দাঁড়ালো। চতুর্দিকে চায়ের বাগান। অসাধারণ লাগছিল। গাড়িতে আস্তে আস্তে ওর সমস্যা শুনছিলাম।এটা ওদের পূর্ব পুরুষের ভিটা।
ওর দাদা রাই টি স্টেট এর ম্যানেজার। ওদের প্রচুর জমিজমা আছে। পাঁচ দিন আগে টি এস্টেটের মালিক কলকাতা থেকে এখানে এসেছিল। কিন্তু স্টেশন থেকেই তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। দাদার কাছে একটা চিঠি এসেছে পুলিশে খবর দিলে লাশ অবধি পাওয়া যাবে না। পরিবারও সুরক্ষিত থাকবে না।
আমি বললাম, ‘ উনার বাড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে?’ বলল,‘ হ্যাঁ। ওদের বাড়ির লোক পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছে। এদিকে আমার ছুটি কাল শেষ। অমৃতসর যেতে হবে। দাদার জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে। স্যার আপনি একটা কিছু করুন। এই কাজে আপনাকে সাহায্য করবে বীর বাহাদুর।’
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কে সে?’
বলল, ‘ এই জঙ্গলই ওর ঘর বাড়ি। ওই যে নদীটা দেখছন ওর পাড়ে ওর ঘর। শুনেছি ছোটবেলায় ওর বাবা মারা গেছিল রহস্য জনকভাবে। ওর মাকে কেউ কখন দেখেনি। সেসব অনেক কথা। তবে এই জঙ্গল ওকে আপন করে নিয়েছে। জলদাপাড়া,বক্সা, চিলাপাতা প্রতিটি জঙ্গলের কোথায় কি আছে ওর নখদর্পণে। একটা বাজপাখি কাঁধে থাকে। সাংঘাতিক পোষ মেনেছে আর বাহাদুর নামে একটা হাতি ওর বন্ধু। তাই সবাই ওকে বাজ বাহাদুর বলে। জঙ্গলে মাহুতের কাজ করে। সন্ধাবেলায় আসবে, আপনার যা কিছু জানার ওর থেকে জেনে নেবেন।’
আমি বললাম,‘ আচ্ছা, তোমার দাদার কাছে যে চিঠিটা এসেছে সেটা একবার আমাকে দেখাতে পারো?’ কিছুক্ষণ পর চিঠিটা নিয়ে এলো। চিঠিটা ভালো করে দেখলাম চিঠির ভিতরে খুব হালকা একটা ছবি। চিঠিটা ওকে রেখে দিতে বললাম।
সন্ধ্যাবেলায় বাজ বাহাদুর এল। খর্বাকার, চ্যাপ্টা নাক,শক্ত চোয়াল বছর কুড়ির এক টগবগে যুবক। ওর চোখ দুটো বাজ পাখির মত। ওকে একটা হাতে আঁকা ছবি দেখালাম। বললাম,‘ দেখতো এই ছবিটা তোমাদের কোনো চেনা দেবতা নাকি?’ সঙ্গে সঙ্গে ও মাথায় হাত ঠেকিয়ে বললো,‘ এত রাজা কান্তেশ্বরের ছবি।’ আমি চুপ করে গেলাম।
টিটো বলে উঠল, “কান্তেশ্বর কে মামাবাবু ?” কর্নেল বললেন,“তের শতকে স্থাপিত একটি রাজ্য। তবে এটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধ হয় ১৬ শতক থেকে। সেন রাজবংশের জনৈক রাজা নীল রাজার সময়। ধরলা নদীর তীরে অবস্থিত তার রাজধানী কামতা নগর থেকে শাসন পরিচালনা করতেন। দেবী চণ্ডীর আশীর্বাদে কান্তেশ্বর রাজত্বের প্রাপ্তি ঘটে। তিনি এক পুরুষ রাজত্ব ভোগ করার বর পান। রাজা হিসেবে তিনি ছিলেন সুশাসক ও ধর্মপরায়ণ। বিশ্বকর্মার অসাধারন শিল্পকর্মে এক রাতের মধ্যেই সেজে ওঠে তার রাজ্য ও রাজপ্রাসাদ। রাজ্যকে সুরক্ষিত রাখতে চারিদিকে সুন্দর সুন্দর গড় নির্মাণ করেন বিশ্বকর্মা নিজে। কারুকার্য যুক্ত বিভিন্ন দুয়ার স্থাপিত হয়। শীলদুয়ার,ধর্মদুয়ার নামে সেগুলি এখনও বিদ্যমান। চারিদিক থেকে মাটি কেটে এনে এবং বিভিন্ন পাথর দিয়ে স্তুপাকার ঢিবির উপর রাজ্যপাট নির্মাণ করেন। জলের সমস্যা দেখা দেবে এই ভেবে মা গঙ্গাকে স্মরণ করেন। সেখানে দেব শিল্পী স্থাপন করেন সুবিশাল কুয়ো।
একসময় পশ্চিমে করতোয়া নদী পূবে ব্রহ্মপুত্র আর উত্তরে ভুটান থেকে বগুড়া জেলা পর্যন্ত ছিল এই রাজনগরের সীমানা। এখন দুর্গটি গোঁসানিমারি গড় নাম নিয়েছে। এখানকার ইতিহাস নিয়ে প্রচলিত উপকথা হলো,গোঁসানি দেবীর নির্দেশে বিশ্বকর্মা রাতারাতি কান্তেশ্বর রাজত্বের সুরক্ষায় এই গড় তৈরি করেন।” টুয়া বলে উঠল,“ মামাবাবু, এত অনেক আগের কার কথা। এখন এই এসব আছে?” “আছে তো ধ্বংসাবশেষ। কোচবিহার থেকে ২২ কিলোমিটার দক্ষিণে দিনহাটা মহকুমার খলিসা গোঁসানিমারি গ্রামে এখন ঘুমিয়ে আছে কামতাপুর।” টিটো,“ মামাবাবু , ঐ টি স্টেটের মালিকের কি হলো?”
“পরদিন ভোরবেলা আমি আর বাজ বাহাদুর দেবকে ট্রেনে তুলে দিয়ে অন্য একটা জিপ নিয়ে জঙ্গলে বেরোলাম। জঙ্গলে ঢোকার মুখেই একটি বিশাল ডানার বাজপাখি এসে বাজ বাহাদুরের হাতে বসলো। তারপর সোজা নদীর দিকে উড়ে গেল। এই প্রথম আমি এত কাছ থেকে বাজপাখি দেখলাম। কিছুটা যাবার পরেই হাতির ডাক শুনতে পেলাম। বাহাদুর, বাহাদুর বলে ডাকতেই এক বিশাল আকার হাতি শুঁড় নাড়তে নাড়তে এগিয়ে এলো। বাজ বাহাদুরের সরল মুখের হাসি দেখে আমি স্তম্ভিত। ভালবাসলে জংলি জানোয়ারও কেমন পোষ মানে। ব্যতিক্রম শুধু মানুষ। খানিকটা যাবার পরেই জঙ্গলের সরু রাস্তায় চাপচাপ রক্তের দাগ দেখতে পেলাম। ভালো করে রাস্তাটা দেখলাম। দেখলাম পাশে লেপার্ডের পায়ের ছাপ। বাজ বাহাদুর একদম বিচলিত নয় দেখে বললাম,‘ বাহাদুর এ কিসের রক্ত?’ বাহাদুর জানালো,‘ বাবুজি এ রক্ত নয়,গাছের রস। এই জঙ্গলের সবচেয়ে দামি গাছ। এর নাম রামগুয়া চোরাচালানকারীরা আরো একটি গাছ কেটে সাবাড় করে দিল। এ গাছ শুধু এই জঙ্গলেই পাওয়া যায়।’ জিপ রেখে হাঁটতে হাঁটতে দুজন নদীর ধারে এলাম। বাজ বাহাদুরের বাজ এসে ওর ঘাড়ে বসলো। নদীর ওপারে ঘন জঙ্গল। বাহাদুর বলল,‘ বাবুজি নদীর ওপারে শত্রুর সন্ধান পেয়েছে আমার বাজ। আজ রাতে ওপারে গেলে হয়তো উনার খবর পাওয়া যেতে পারে।’ বললাম,‘ ঠিক আছে এখন ফিরে চলো।’ জিপের পিছন পিছন বাজ বাহাদুরের হাতি ও আসতে লাগল। একটা জায়গায় হাতি থেমে গিয়ে চিৎকার করতে লাগলো। সঙ্গে সঙ্গে বাজ এসে একটা কোবরাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল। একেই বলে বাজের চোখ। জায়গাটা দেখতে গিয়ে একটা মোচড়ান কাগজ চোখে পড়লো। কাগজটায় লাল লাল আঙুলের দাগ লেগে আছে। কাগজটা খুলতেই আগের চিঠির ছবিটা এই কাগজের টুকরোতেও পাওয়া গেল। আমি কাগজটা পকেটে নিয়ে বাংলোতে ফিরলাম।
গভীর রাতে বাজ বাহাদুর আর আমি বেরোলাম। ঘন জঙ্গল,কোন আলো জ্বালা যাবে না। তাহলে শত্রু সাবধান হয়ে যাবে। যত এগোছি ঝিঁঝিঁ পোকার ভয়ঙ্কর ডাক বাড়ছে।বুনো হাতির ডাক। শুকনো পাতার মচমচ আওয়াজ। মাঝে মাঝেই পেঁচার ডাক পরিবেশকে আরো বন্য করে তুলেছে। এক আদিমতায় চারিদিক আচ্ছন্ন করে রেখেছে। বাজ বাহাদুর শর্টকাটে নদীর ধারে নিয়ে এলো। এই প্রথম হাতির পিঠে চড়ে নদী পেরোলাম। পাহাড়ি নদীটা পেরোতেই ঘন জঙ্গলে একটা গোঙ্গানির আওয়াজ শোনা গেল। খানিকটা যাবার পরে চাঁদের আলোতে একটা কাঠের ভাঙ্গা বাড়ির মত দেখতে পাওয়া গেল। বাড়িটার কাছে যেতেই কয়েকজন লোক বন্দুক ঠেকিয়ে আমাদের বন্দি করে একটা ঘরে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখলো। আমরা আত্মরক্ষার সুজোগটুকুও পেলাম না। পাশের ঘর থেকে গোঙানির আওয়াজটা আসছে। ভোরের দিকে একজন কাপালিক টাইপের লোক ঢুকলো। বাজ বাহাদুরকে দেখে বলল, ‘ কিরে, বেশী চালাক হয়ে গেছিস না। জানিস না এই জঙ্গল এই পাহাড় এই নদী সব আমাদের। এখানে অন্য কেউ এসে ব্যবসা করবে আর ফায়দা লুটবে তা আমরা হতে দেব না। মায়ের কাছে তোকেই আগে বলি দেবো। তারপর ওদের ব্যবস্থা।’ ঠিক এই সময়ে বাহাদুর তার বিশাল শরীর নিয়ে ভাঙ্গা বাড়ীটায় এমন ধাক্কা মারল যে বাড়িটা ভেঙে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে কাপালিকও পড়ে গেল। তারপরই ফায়ারিং এর শব্দ শোনা গেল। তখন আমি নিশ্চিত হলাম যে আমি আসছি না দেখে থানার বড়বাবু পুরো ফোর্স নিয়ে চলে এসেছেন। বাজ পাখিটা ঠোঁট দিয়ে দড়ির বাঁধন খোলার চেষ্টা করছে। ততক্ষণে আমার পায়ে রাখা ছুরি দিয়ে বাহাদুর এর হাতের বাঁধন খোলা হয়ে গেছে। পুলিশ কয়েকজনকে জঙ্গল থেকে গ্রেফতার করেছে।
ওদের থেকেই এই ডেরার সব জানা গেছে। থানার ওসি মিঃ সরকার ঠিক সময়ে এসে গেছিলেন না হলে এখানকার বিষাক্ত মাকড়সার কামড়ে ভব লীলা সাঙ্গ হত। মিঃ সরকার বললেন,‘ কর্নেল ঠিক আছেন তো?’
আমি মাথা নেড়ে ঐ মরনকুপ থেকে বেরিয়ে এলাম। মিঃ সরকার কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ এরা কারা?’ মিঃ সরকার বললেন, ‘ কর্নেল আসলে এরা চোরা চালানকারীর একটা গ্যাঙ। আর ঐ ভন্ড কাপালিক নিজেকে কামতাপুর এর গড ভাবেন। আর এই সব উস্কানি মূলক কাজ কর্মে মদত দেয়। ওকে নর্থ বেঙ্গল পুলিশ অনেকদিন ধরেই খুঁজছিল। নানারকম বহুরূপির ভেক ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিচ্ছিল। কাঠ পাচার,জন্ত জানোয়ার পাচার, কিডন্যাপ এই সব করে টাকা আদায়ের ধান্দা করে।’
পাশের ভাঙা ঘরটা থেকে টি স্টেটের মালিককে উদ্ধার করা হল। বেচারির বেহাল অবস্থা। সে নিজেই শোনাল সেদিন ট্রেনে কি ঘটে ছিল। ‘ ওরা কৃষানগঞ্জ থেকেই আমাকে ফলো করছিল তা বুঝতে পারেনি। একজন সুপুরুষ ভদ্রলোক এর সাথে আলাপ হয়েছিল। তার বাড়িও নাকি আলিপুরদুয়ার। কলকাতায় চাকরি করে। টুকটাক গল্প হতে হতে আমাকে চা দেয়। চা খাবার পরই আমার মাথা ঝিমঝিম করে। তারপর আমার আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরতে দেখি এই জঙ্গলে। আমার বাড়িতে ফোন করে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা মুক্তিপন চায়। ম্যানেজারকেও চিঠিতে হুমকি দেয়।পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে না করে। একটু জল আর শুকনো একটু খাবার দিয়ে চলে যেত। রাতে সব ফিসফিস করে কথা বলত। ওদের কথা বোঝা যেত না। রাতে কোন আলো জ্বালত না। অন্ধকারে ফেলে রাখত। কিন্তু কাল ওদের একজন মাকড়সার খপ্পরে পড়ে। তখন ওরা আলো জ্বালাতে বাধ্য হয়।’ সব শুনে মিঃ সরকার বলেন,‘ আলো কর্নেল এর চোখ এড়ায়নি। কর্নেল এর কথা মতই আমরা নদীর ওপারে অপেক্ষা করছিলাম। আপনার সিগনাল এর অপেক্ষায় ছিলাম। আলো ফুটতেই দেখি বাজ বাহাদুর এর বাজ ঐ জায়গায় চক্কর কাটছে। ব্যাস আর দেরি না করে এ্যাটাক করলাম। একেবারে মোক্ষম সময় বাবাজি কাহিল হলেন।
তিনটে জিপে করে সবাই থানার দিকে রওনা দিল। আমি কিন্তু বাহাদুর এর পিঠে চড়ে দুলতে দুলেতে বাংলোতে ফিরলাম। পরের দিন কলকাতায় ফিরব দেখি বাজ বাহাদুর সপরিবারে দাঁড়িয়ে আছে। আমি বাহাদুরের শূঁড়ে হাত বুলিয়ে দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে বাজ পাখিটা আমার কাঁধে বসল। বাজ বাহাদুরকে বললাম, ‘ এবার আর তোমার গল্প শোন হল না। পরের বার তোমার গল্প শুনব।’
আমার স্টেশনে যাবার গাড়ি এগিয়ে গেল আর ওরা সবুজের কোলে হারিয়ে গেল।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।