মার্গে অনন্য সম্মান রঞ্জনা মন্ডল মুখার্জী(সর্বোত্তম)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা – ৬৫
বিষয় – কালো মেয়ের শ্যামা রূপ
জাগ্রত হোক শ্যামা
এই জগৎ সংসারে দুষ্টের দমনে শিষ্টের পালনে,
জগৎ জননী শ্যামা তুমি এসো আরবার ফিরে।
যেভাবে রণচন্ডিকা রূপে খড়গ হস্তে অসীম তেজে,
পরিত্রাতা হয়েছিলে রক্তবীজের বিনাশ সাধনে,
আসুরিক শক্তি নাশে মুন্ডমালিনী কালিকা রূপে,
আদ্যাশক্তি তুমি মা গো বরাভয় দাও অন্য হাতে!
সন্তানেরে রক্ষার্থে
শ্যামা তুমি জ্বলে ওঠো আপন তেজে।
নররূপী অসুরে আজ ছেয়ে গেছে সংসার,
মুখোশের আড়ালে দানবের পাশবিক হুঙ্কার,
বিবেক বোধের বিসর্জনে অশুভ শক্তির আস্ফালন,
অমানিশার করাল ছায়ায় মনুষ্যত্বের দিকে দিকে অবনমন!
শক্তির উৎস রূপে আপন তেজে জ্যোতির্ময়ী,
রুদ্রাণী চামুন্ডা রূপে অশুভ শক্তিকে কর সংহার।
কার্তিকী অমাবস্যার নিশিতে মায়ের আবাহন,
তন্ত্র মন্ত্র পূজাচারে নিমগ্ন সাধকজন।
ভক্তের অন্তরে মাতৃরূপে সদা জাগ্রত শ্যামা।
রক্তজবার অর্ঘ্যে পূরিত ভক্তের বাঞ্ছা!
অথচ এই সমাজের শ্যামারা আজও বড়ই অসহায়,
শ্যামলা মেয়ে অনাদৃতা, থাকে অবহেলায়,
গাত্রবর্ণ কালো হওয়ায় কটুক্তিতে ভরে,
জগতের বোঝা সে যে কন্যাজন্মের অপরাধে!
অথচ, সংসারের আধার সে মেয়েটিই দশভুজা,
রত্নগর্ভা জননী সে যে সৃষ্টির চালিকা,
শ্যামা মেয়ে ফেলনা সে নয়,সে যে সর্বংসহা,
যোগ্য সহধর্মিণী রূপে সে মেয়ে পতিব্রতা!
সংসারের মঙ্গলহেতু সদা কায় মনে নিয়োজিতা।
মহাদেবের বক্ষে থামে ভৈরবীর প্রলয় নাচন,
নর নারীর সহাবস্থানেই সংসারের মঙ্গলসাধন।
যে কৃষ্ণ সেই কালী,প্রকৃতি ও শক্তির মেলবন্ধন ,
নারী শক্তির মধ্যেই চলে মহাকালের আবর্তন।
শ্যামা সে তো ঘরের মেয়ে,আটপৌরে কন্যা!
কখনো রামপ্রসাদের আহ্লাদী মেয়ে,
কখনো বা রামকৃষ্ণের স্বপ্নদ্রষ্টা মা..!
প্রতিটি মেয়ের মধ্যেই আছে কালিকার সত্তা,
মেয়ে মাত্রই এ সংসারে শ্যামার প্রতিচ্ছায়া,
মননে-চেতনে জাগ্রত হোক জ্যোতির্ময়ী শ্যামা।
অশুভ শক্তির পরাভবে হোক শুভ শক্তির সূচনা।