ক্যাফে গদ্য কাব্যে রোহিত কুমার সরদার

ওগো কাল বৈশাখী
চৈতি হাওয়া দখিনা পবনে বায়। ফাগ পলাশে কাঁপন জাগে। দিগন্ত উন্মোচিত মাঠ,উষ্ণতার ফাটলে ফাটলে দীর্ঘশ্বাস জাগে। বম বম শব্দে রব ওঠে। গলায় সন্নেসীর পৈতে ধবধবে সাদার উপর আবছা হলুদের আস্তরণ, যেমন আস্তরণ পড়েছে নীল মেঘের পরে কালোর আভা। বহুদিন থেকে সেজেই চলেছে সেজেই চলেছে, আসা তার হয়ে ওঠেনি। পশ্চিমের বাঁশ গাছ আঁশ ছেড়ে মাথা তোলে। বসন্তের বাহারি ফুল মালা গেঁথে অপেক্ষায় থেকে শুকিয়ে গেল। আর আবাহনের ঘন্টা বাজিয়েও উস্কে দেওয়া ছাই উড়িয়ে নীরবে থেকে যায় অন্তরের গহীনে। স্ফূলিঙ্গ ভিজে বিড়ালের মতো। মফিজুর পরিমল আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। মাঠে মাঠে গরমের সোনালী ফসল। ফসল বিলাসী ঢেউয়ে মাথা দোদুল দোলে। কৃষক রমণীর নরম হাতের স্পর্শ পাওয়ার প্রতীক্ষায়। চোখাচোখি দৃষ্টি বিনিময়ে হয়েছে বহুবার কিন্তু আঙিনায় হয়নি তার যাওয়া।। বহুদিনের সুপ্ত বাসনা অন্দরমহলে ঢুঁ দেবার, কাঁকনের রিনিঝিনি শব্দ তার যে বড়ো ভালো লাগে।এই চিরায়ত আকাঙ্ক্ষাকে অভিসার বলতে পার।ভাবতেই পারো তোমার মনের গহীনে যা আসে। কিন্তু দোহাই মাটি কর না এই অভিলাষকে অযাচিত হস্তক্ষেপে।
ঈর্ষা যদি থাকে চোখের কোণে তবে কাজল পরলে তা আরও ভয়ঙ্কর হয়। পুব গগনে কাজলে কাজল আঁকা সেই সাজ।অভিসারিকার হৃদয়ে কাঁপন জাগে। ফুলসজ্জার কোন ফোঁকরে কালনাগিনী দ্বয়, নৃমুণ্ডমালিনী এ সেই দূরায়ত অতীতের পরিচিত ছবি। আমি তোমায় চিনি ওগো দূর দ্বীপ বাসিনী।তোমার প্রেমে ডুব দিয়ে হয়েছি ছারখার। তবুও তোমার আলিঙ্গনে কেন ধরা পড়ি বারবার!
অবশেষে তাই হল – “বাতাসে বহিল প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা কারা যে ডাকিল পিছে”- এই পিছে ডাকেই মাতাল হল ভূবণ। তাল নৃত্যে পথ হল ভুল, ধুলিমাখা দীর্ঘজটে খ্যাপা রোষে ফোঁসফোঁস। নগেনের চালের খড় গিয়ে পড়ে পালানের উঠোনে আর সেই খড়ের দাবি নিয়ে দাপাদাপি আর চুলোচুলি – সে বিচার না হয় পরেই হল তাই বলে ওগো কাল বোশেখ তুমি ওমন করে নেচো না গো আমার প্রাণে।
তুমি বলবে দূর ওমন করে ভয় পেলে হয়।আমি ক্ষণিকের অতিথি, জন্মের প্রথম শুভক্ষণে আমাকে তো দেখা দিতেই হয়। জ্বরাজীর্ণতাকে ধ্বংস করে নতুনের সৃজনই আমার লক্ষ্য। আমি যে নবীন যৌবনের দূত।
বললাম তা তো বুঝলাম, কিন্তু তোমার ওই রূপে আমি সত্যই মাঝেমধ্যে খেই হারাই।ব্যথার বাঁশি বাজিয়ে যে ক্ষতের সৃষ্টি কর তা মশ্চারাইজার ক্রিমেও সারে না।তবুও তুমি এসো।মাঝেমাঝে চকিত চমকে চাহনি আর ঘূর্ণায়মান ঠমকে চলা কেন যে আমায় টানে তা জানি না! হয়তো এই কারণেই তোমার কাছে আমারি মন দেওয়া।