গারো পাহাড়ের গদ্যে রবীন জাকারিয়া (নিবন্ধ)

দালাল
স্বাধীনতা পরবর্তি এদেশের কিছু শিক্ষিত ও বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আর ক্ষমতার বেকিন্দ্রীকরণের ফলে সমস্ত সেবা সমূহ অতি স্বল্প সময়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন সংগঠণের বিকাশ সাধন করে৷ সরকার ও জনগণকে বিভিন্ন অবহিতকরণ সভার মাধ্যমে বোঝাতে সক্ষম হয় যে এর ফলে সেবাদানকারী ও সেবা গ্রহীতার মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি নেতৃত্বের বিকাশ লাভ করবে৷ কিন্ত পরবর্তিতে প্রতিয়মান হলো যে আসলে এরা এদেশের আরেক ব্যুরোক্রাট গোষ্ঠী৷ অতীব বিজ্ঞ আর জ্ঞানী মনে করেন৷ তাই এদের আজ পর্যন্ত একটা সংগঠন দাঁড় করতে পারেনি৷ একসময় ADAB ছিল৷ এরপর তৈরি করলো FNB তারপর সবশেষ৷ শ্রমিকদেরও সংগঠণ আছে৷ কিন্ত এদের নেই৷ কেননা এরা জ্ঞানপাপী৷ এটা হলফ করে বলতে বাংলাদেশে কোন মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে NGOর সৃষ্টি হয়নি৷ শুধুমাত্র নিজেদের উন্নয়ন ছাড়া৷ সংগঠনের Sustainability এর নামে এরা কর্মিদের Labor Law’র বিরুদ্ধে ৮ ঘন্টার স্থলে ১২ ঘন্টা খাটিয়ে শুধু সংগঠনের বিলাশবহুল ইমারত আর নীতিনির্ধারকদের উন্নয়ন ব্যতিত কর্মির মানবিক দিক নিয়ে কখনোই ভাবেনা৷ বরং অভিজ্ঞ, কমিটেড ও দীর্ঘদিন সংগঠনের জন্য নিবেদিত কর্মির বেতন যখন বৃদ্ধি পায় (পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্টসহ) তখন যে কোন সুতোয় তাদেরকে ছাঁটাই করা হয়৷ বিভিন্ন পেপার-পত্রিকার সংবাদ অনুসারে প্রতিবছর বিভিন্ন সংগঠনের কর্মি ছাঁটাই তালিকা দেখলেই তা ষ্পষ্ট বলে প্রতিয়মান৷ বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠান কিংবা টক শো’তে এদের পোষাক পরিচ্ছদ দেখলেই সহজে অনুমান করা যায় তাদের লাইফ স্টাইল৷ দেশ কিংবা রাজনীতিতে যোগ্য নেতৃত্ব আর গণতান্ত্রিক চেতনার কথা বলে বলে যারা আলোচনা মুখরিত করে নিজেকে পরমতসহিষ্ণু আর সাদা মনের মানুষ হিসেবে জাহির করতে চান৷ খুঁজে দেখুন তাঁরা নিজেরাই কি সংগঠনে যোগ্য নেতৃত্ব কিংবা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পেরেছেন? বরং আমৃত্যু তাঁরা সংগঠনের স্বৈরতান্ত্রিক ও সর্বাত্বকবাদী নির্বাহী হিসেবে কাটিয়ে দিচ্ছেন৷ এমনকি সংগঠনের পলিসি অনুযায়ী তাঁদেরকে আইনের আওতায় আনার পথও রুদ্ধ করা হয়েছে৷ এই দেশেই একজন প্রধান বিচারপতি যখন অন্তরবর্তিকালীন সরকার প্রধান হওয়ার পর পুনরায় পূর্বের পজিশনে আসার জন্য সংবিধান সংশোধণ করা হয়৷ তখন এরাই এর বিরুদ্ধে কত সমাবেশ, সেমিনার, সাক্ষাৎকার ও বক্তব্য রেখেছেন তা বলে শেষ করা যাবেনা৷ অথচ এদের অনেকেই বিভিন্ন সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হওয়ার পর এমনকি সামরিক সরকারের তাবেদারী করে নিজেদেরকে পুনরায় পূর্বের কর্মস্থলে শুধু পুনর্বহাল করেননি৷ বরং ঐ সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের সংগঠণের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা অনুমোদন নিয়েছেন৷ একটা কথা মনে রাখতে হবে এঁরা সর্বদা ক্ষমতাসীন দলের তাবেদারী করে সুবিধা আদায় করে নিতে সিদ্ধহস্ত৷ গত ৩০-৫০ বছর ধরে তাঁরাই কিংবা তাঁদের সন্তানেরা সংগঠন চালাচ্ছেন৷ নেতৃত্ব আর গণতন্ত্রের অসাধারণ দৃষ্টান্ত৷ আসলে এঁরা কেউই গণতন্ত্র কিংবা নেতৃত্বের বিকাশ সাধন চায়না৷ এঁদেরকে অনেকে ভুল করে মহৎ ভাবতে পারেন৷ কিন্ত এঁরা আসলে দালাল৷
(বি.দ্র: এদের মধ্যে অনেক সংগঠণ রয়েছে যারা প্রকৃতপক্ষে মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে৷ কিন্ত সুবিধাবাদী ও দালালদের জন্য এরা টিকে থাকতে পারছে না৷ তাই এদের সংখ্যা খুবই কম৷)