কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে রবীন জাকারিয়া (গুচ্ছ কবিতা)

এখন আমি আনন্দ পাই বেশ
তপ্ত পিচঢালা পথে হাঁটি
কষ্ট ভুলে তোমায় ভাবি৷
ভীষণ শব্দতোলা নৌকায় ব্রহ্মপুত্র
পাড়ি দেয়ার যাতনায় তোমাকে ভাবি৷
সেমিস্টারের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় যখন
মাঝামাঝি জায়গায় বিশ্রিভাবে আঁটকে পরি
তখন তোমাকে ভাবি৷
তোমাকে নিয়ে এতসব ভাবনা
মঙ্গল আনেনি এতটুকু!
বরং পিছিয়ে দিয়েছে বহুগুনে—
লেখাপড়া, পারস্পরিক ভালবাসা সর্বত্র৷
তুমি এখন অন্যের ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু৷
কী বাহারি আর আহ্লাদি উপস্থাপন তোমার৷
তোমাকে দেখলে এখন ঘেন্না হয়৷
আমি বিসিএস ক্যাডার এক সরকারি চাকুরে৷
প্রতিটি ক্ষণ উপভোগ করি তোমাকে ছাড়াই,
এখন কেন যেন আনন্দ পাই বেশ৷
তোমার পরিত্যাগে নাকি নিজের ক্ষমতায়
হিসেব করিনি এখনো৷
আমি ফিরিঙ্গি
আমায় দেখলে তুমি যে কত
দেখাও গিরিঙ্গি
নাটক দেখে ভাবি তুমি বাঙ্গালী
আর আমি ফিরিঙ্গি
পরহেজগারী চোর
দুর্নীতি ভরা অফিসগুলো
টুপিওয়ালার ঠাশা
চাল চলনে বোঝায় তারা
মানুষ বড্ড খাশা
বেতনে দিযে কুরবানী দেয়
ঘাপলা টাকায় বাজার
মনের ভেতর সহী শান্তি
নেই কোন আর সাজা’র
আত্মপ্রবঞ্চক
প্রত্যেক রাকাতে পাঠ করি ‘ইহ্দিনাস সিরাতুল মুস্তাকিম’ সিরাতুল লাজিনা..
নামাজ শেষে প্রগতিশীল আমি দৃঢ়তার সাথে বলি
এই বাংলায় ধর্মের আইন মানিনা
অদ্ভুত প্রেম
জিলহাজ্ব মাসের ১০ তারিখ মুসলিম বিশ্ব
সমস্বরে পাঠ করে লাব্বায়েক, আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক
আমার দেশে লাউড স্পিকারে ইদের খুশিতে পাঠ করে ‘পুজা করো, সাজদা করো, যেয়সে কহো অয়সে চাহো৷”