কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে রবীন জাকারিয়া

অমানিশা

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ
এক টুকরো চাঁদের ভূতুরে আলোয়
চেয়ে থাকি অপলক!
চরকা কাটা কোন বুড়ি দৃশ্যমান হয়না,
বরং এক পরিশ্রান্ত নারীকে দেখি
মমতা ভরা চোখে৷

দুহাত দিয়ে চোখ কচলিয়ে
আবারো চেষ্টা করি গভীর দৃষ্টিতে
সেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, ফ্যাকাসে চাঁদ আর
সেই রহস্যময়ী নারীকে!
নিজেকে আবিষ্কার করি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন,
জীর্ণ এক রান্না ঘরে৷
যেখানে নিভু নিভু প্রদীপের আলোয়
আমার স্বপ্নের বাতিঘর, মমতাময়ী মা
একমুঠো ভাত রাঁধছেন৷
বাটনায় পটলের ফেলে দেয়া ছাল দিয়ে
কী ভীষণ যত্নে ভর্তা করছেন!
প্রচন্ড ক্ষুধায় গরম ভাত আর
ভর্তার ঝালের গন্ধ যেন নেশা ধরায়৷
থালাটাতে ভাত আর ভর্তা দিয়ে মা বললো,
আজ বাজার করা হয়নি বাবা৷
কষ্ট করে খেয়ে নে৷
কাল টাকা নিয়ে ভালো করে বাজার করিসতো!
দেখতো বাবা বাড়িতে টাকা থাকার পরেও
কেন যে এমন হলো বলতো?
বুঝেছিস ব্যাটা! বয়স! সব ভুলে দেয়৷
আমি জানি
কাল কেন আগামী চারদিনেও বাজার হবে না!
মায়ের কাছে টাকা নেই৷
ছোট হলেও বুঝি
মা সান্তনা দেয়, স্বপ্ন দেখায়৷
মায়ের এই মিথ্যা আশায়
আশাহত হইনা মোটেও৷
কেননা রাষ্ট্র প্রতিদিন এমন মিথ্যা বলে৷
পার্থক্য শুধু মা স্বপ্নের বাতি জ্বালায়
আর রাষ্ট্র অমানিশায়৷

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।