কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে রুকসানা হক

তবু হাঁটছি অনন্তকাল
চৈত্রের মিঠেকড়া রোদ ঝুলে আছে ঘাম দরদর শরীরে আমার
পৃথিবীর সিঁথি ধরে তবু হাঁটছি অনন্তকাল
হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যাই পাতালের বানিজ্য মেলায়
ওখানে কেজি দরে বিক্রি হয় ঘাম, চৈত্রের রোদ
মাতাল কঙ্কালের বিবস্ত্র উল্লাসে
ডাঙায় ভাসতে থাকে বেহুলার নাও।
আমি তবুও হাঁটি উন্মত্ত কঙ্কালের ভিড়ে
ঝুলন্ত রোদের সোনা দাঁত খুলে আসে লজ্জায়
নতমুখে দন্ডায়মান বায়ান্ন ঊনসত্তর নব্বই
আমি বুক চিতিয়ে হাঁটি তাদেরই বুকের অলিতে গলিতে
ওখানে শুকনো মুখে ঝিমোয় পুশকিনের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা
বোদলেয়ারের বিষাদ বিতৃষ্ণা বিবমিষা
ইয়েটস ভের্লেন মালার্মে রবীন্দ্রনাথ রুমি জীবনানন্দ।
এরপরও হাঁটি শূন্য থলে হাতে কেরানির উদাস চোখে
ন্যাপথলিনের গন্ধে মুমূর্ষু জোনাকির তলপেটে
ঘাম বিক্রি করি চাটুকার তস্করের লোলুপ দৃষ্টিতে
আমার হাঁটা শেষ হয়না
অন্ধকারে হামাগুড়ি দিতে দিতে খুইয়ে বসি চৈত্রের রোদ
বেহুলার ছিন্নভিন্ন শাড়ির আঁচলে লুকোই বেচে দেয়া ঘাম
আবারো হাঁটতে থাকি
হাঁটতে থাকি অনন্তকাল।।