ক্যাফে গল্পে ঋতব্রত গুহ (তৃতীয় পর্ব)

বড়া ইমামবড়ার কাহিনী
“ কি হল হাসান ! “
“ একজন নকশা নিয়ে এসেছে নবাব । কিন্তু এখন তো আর নকশা নেওয়া হচ্ছে না । তাই সিপাহিরা ফিরিয়ে দিচ্ছিল । কিন্তু ছেলেটি নাছোড়বান্দা নবাব । কিছুতেই আপনাকে নকশা না দেখিয়ে যাবে না । “
নবাব যেন একটু খুশি হলেন ।
“ ওকে নিয়ে এস হাসান । আল্লা কোন মেহেরবান করলেন কিনা দেখি আগে ! “
“ সিপাহি ! ওকে নিয়ে এস ! “
হাসান হুকুম দিল সিপাহিদের ।
নোংরা আলখাল্লা পড়া একজন যুবক ভেতরে প্রবেশ করল । পড়নে পোশাক নোংরা হলেও ছেলেটির চোখ দুটো বড় উজ্জ্বল । নবাবের সামনে নকশাটা রাখল সেই যুবক । হাসান তাকিয়ে রইল নবাবের চোখের দিকে । যুবকের মনে কোন হেলদোল নেই । সে বোধহয় একপ্রকার নিশ্চিত যে নবাবের এই নকশাটাই পছন্দ হবে ।
“ বহত খুব ! এমনটাই তো চাইছিলাম হাসান । “
“ আপনার পছন্দ হয়েছে নবাব ! ” যুবকটি প্রশ্ন করল ।
“ হ্যাঁ । কিন্তু ইমারত তৈরি হবে অথচ কোন লোহার খাঁচা ব্যবহার হবে না । এও কি করে সম্ভব ! “
হাসল যুবকটি ।
“ চুন , আটা , গুড় , বেল আরও অনেক কিছু ব্যবহার করে ইমারত তৈরি করা যায় নবাব । লোহার খাঁচা লাগবে না । এই ইমারত তৈরি হবে সম্পূর্ণ অন্যভাবে । কেউ যা কখনও দেখেনি । ওপরে তৈরি হবে ভুলভুলাইয়া । যেখান দিয়ে ছাদে পৌঁছানর একহাজারের বেশি রাস্তা থাকবে । কিন্তু কেবল একটা রাস্তাই সঠিক হবে । আর ছাদে থাকবে অনেক ঝাড়োকা । এত বড় ছাদ এর আগে কেই দেখেনি নবাব ! “
আসফ উদ দউল্লা উৎসাহিত হয়ে উঠলেন ।