প্রযুক্তি-চেতনা ও সমান্তরাল কবিতা : নিউট্রাল / N ∙ 0 চিহ্নিত
বই : নিউট্রাল / N ∙ 0 চিহ্নিত কবি : শাব্দিক সাব্বির প্রকাশনা : ঘোড়াউত্রা প্রকাশন প্রচ্ছদ : মাইদুল রুবেল গ্রন্থসজ্জ্যা : সুমন দীপ
সময়ের সাথেসাথে পরিবর্তিত হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রা; ফলতঃ তার বদলে যাওয়া চেতনা’র সাপেক্ষে পরিবর্তিত হয়েছে তার প্রকাশন এবং অনুভব।তৈরি হয়েছে নতুন কবিতাবোধ এবং কবিতাভাষা ~ যা তাকে পৌঁছে দিয়েছে নতুন নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টির কাছে।এর সাথে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তি-চেতনা; যা গোটা বিশ্বকে এনে দিয়েছে হাতের মুঠোতে।সুতরাং, এই সময়টা হলো অধুনান্তিক পরবর্তী উগ্র তথ্যপ্রযুক্তি যুগ।
এরকমই প্রযুক্তিগতোভাবে, সমান্তরাল বাংলাভাষায় রচিতো কবিতার বই “নিউট্রাল / N ∙ 0 চিহ্নিত”।মোট একুশটি টেক্সট; যার প্রতিটিতেই যাপনের চেতনাসত্ত্বাকে পদার্থবিদ্যা’র বিভিন্ন বিষয়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে ~ নবোতমো ভাষা প্রকাশ ও ভঙ্গিমায়।তরুণ কবি শাব্দিক, নিজে একজন তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের ছাত্র হয়ে সাহিত্যের সাথে কীভাবে মেলবন্ধন ঘটিয়েছে, তা যে কেবল ভাববার নয় বরং তা দেখে চমৎকৃত হতে হয়।আবহমান মেলোডি ছেড়ে, কবিতার ভিন্ন আরেক অধ্যায় : যেখানে ভাবের প্রাধান্য নেই বরং ভাবনা’র প্রাধান্য রয়েছে।আরো সুন্দর ও সঠিকভাবে : অন্তরচেতনার প্রতিটি ব্রহ্মান্ড-স্তর কিভাবে একাত্ম হয়ে উঠছে প্রকৃতির অন্তরে ঘটে চলা নিত্য পারমাণবিক বিবর্তনের সাথে।
বইটির প্রচ্ছদ শুরুতেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে ~ সত্ত্বা’র দৈততায় চারপাশে যেনো ছায়াছবিদের ঘটানো পারমাণবিক ক্যাওস্ এবং তা চতুর্ভুজ ফ্রেমের চারপাশে, সর্বত্রই সমান।এ য্যানো সেই পাস্কেলের চাপসূত্র ~ তরলের ওপর প্রযুক্ত চাপ চারপাশে সমান।এ য্যানো আগামী কবিতাগুলির কিছুটা প্রাককথন উৎস; যেখান থেকে ট্রিগার হতে থাকে চেতনার অলিগলিঘুঁজি / আনাচকানাচ।
য্যামোন : প্রথম কবিতা ‘নিউট্রাল / N ∙ 0’ থেকে “ওম, ওহমের বাসা চেনে জানতাম না। / ওহম তো আমাকে বহু পূর্বেই ওগানসেন – ওগানসেন বলতে শুরু করেছে। / – তাই, ডেডলাইনজুড়ে দিয়েছি শর্টসার্কিটে। / বোতল, পানি → স্বামিনী // বোতল, পানি, বোতল, গ্লাস → যুক্তিগ্রাহ্য সুক্তি // রেখা, ত্রিভুজ, বিজ্ঞান → সিদ্ধান্ত শক্তি। / ওহম→বাণিজ্যিক। শিল্প মাপায় পটু। ওহম শান্ত, ঘড়ির কাঁটাগ্রাসী’। গোটা টেক্সটিতে শুরু থেকে ~ এখানে ওহম য্যানো এক অদৃশ্য শক্তির গতিময় ফলাফল; যদিও আমরা জানি ওহম একটি তড়িৎবিজ্ঞানের পরিমাপের একক।আর এই অদৃশ্য তরঙ্গময়তাটি কখনো ওম বা কখনো বা যাপন প্রকাশের বিভিন্ন চরিত্রে।
প্রতিটি কবিতার শিরোনাম ~ একেকটি ভিন্নভাবো উপস্থিত করা পদার্থবিদ্যা’র নানান্ পরিচয়।তা সেটি ‘রেডিয়েশনাল দাম্পত্য প্রণয় / N ∙ 0’ হোক বা ‘পাটকাঠির ম্যাপ মাপাবিষয়ক প্রবন্ধ / N ∙ 0’ হোক বা অন্যান্যগুলিই হোক।য্যামোন, আরেকটি উদাহরণ দ্যাখা যাক ~ ‘গণনায় শরীর প্রলাপ / N ∙ 0’ কবিতাটি থেকে ” গভীরতায় শূন্যতা ভাসমান হলে গ্রাভিটির খোঁজে গ্লাসের শরীরজুড়ে শীত নেমে আসে। // চারবার চাবি ঘোরানোর শরীরের-পূর্ব-প্রলাপগোনা ~ অভ্যাস ছিল।আমি তুমি ৯০° ডিগ্রি আসনে ঘুরতাম।আমাদের দেখতো সূর্য, সেও তো ঘুরে।সূর্য ছিল আমাদের বাল্যবন্ধু তাকে ভালোবাসার চেয়ে বেশি ভালো বাসার সন্ধানে খোঁজ করতাম”।এখানে য্যানো সমস্ত চরিত্রগুলো মিলেমিশে সৃষ্টি করছে গ্রহনাপুঞ্জ এবং অবিরত চলছে পারমাণবিক ফিশন্ ও ফিউসন।আবার এসবের সাথে ব্যবহৃত হয়েছে কম্পিউটার ফ্রেমবন্ধনীর নানাপ্রকার চিহ্ন; যেগুলির রয়েছে আরেক তৃতীয়পক্ষের তীব্র দৃষ্টি।
তবে কবিতাগুলিতে ভাবনাচিন্তার অভিনবত্ব থাকলেও, তারা একেবারেই ত্রুটিমুক্ত নয়।কারণ, সাবেকী শব্দার্থ প্রয়োগ ও শব্দার্থের প্রয়োজনাতিরিক্ত ব্যবহার।অর্থাৎ প্রয়োগের ব্যবহারিক বিষয়টিতে মিতব্যয়ী না হওয়া ~ যেখানে প্রযুক্তি’র শেকড়ভিত্তিটাই হলো সংহতভাবে ও পদ্ধতিতে লজিক্ বা অ্যান্টি-লজিক্ জায়গাগুলির হাতেকলমে প্রয়োগ।এছাড়াও, যতিচিহ্ন বিষয়ক অভিনবত্বের অভাব ~ এ কথাটি বরাবরই য্যামোন বলে থাকি; সেটিও ত্রুটি পর্যায়ে রাখছি।তদোপরি এসব সত্ত্বেও, যাঁরা ভিন্নধারার কবিতা বিষয়ে আগ্রহী ~ নিশ্চিতভাবেই ঘোড়াউত্রা প্রকাশনী কতৃক প্রকাশিতো ‘স্বতন্ত্র স্বরের কবিতা’ সিরিজ অন্তর্গতো এই বইটি পাঠ করা অবশ্যই উচিৎ।আশা করবো, ভবিষ্যৎে এই কবি আরো স্বতন্ত্র ও ত্রুটিমুক্ত হয়ে আরো অভিনব ভাবনায় জারিতো করবেন আমাদের।
আলোচনাটি শেষ করার মুহূর্তে আরেকটি কবিতা রাখলাম পাঠক-বন্ধুদের জন্য, শিরোনাম ‘সিনট্যাক্স বাণিজ্য / N ∙ 0’ : ” হাওয়াই মিঠাই সক্রিয় অস্কারে হাবুডুবু খায়।জলাতঙ্ক ফালাফালি করে ফালি চাঁদের উবু রাজ্যে। // হাইপার সিনট্যাক্স নিয়ে রেষারেষি নির্মাণকালে-রেশিও না ধরে হিব্রু নাচে।আমি নিউট্রাল কড়াভাজি স্পঞ্জ মেরুতে।দক্ষিন গোলক রসগ্রাহী হয়ে উঠলে আমি তাঁবুর পিঠে হাত বুলিয়ে রস কাটিং ফিটিং দলিল শিখি। অগ্রাধিকার চুক্তির হাড় বেয়ে মাংস টিপে টিপে গলাটা বায়ুতে নিয়ে আসি। // সক্রিয় সন্ধ্যাদীপ সমীচীন ভাব কেশে -1 মানের ম্যাপমাপা ম্যাট্রিক ভাসায়। // i সেতু হয়ে হুইসল্ বলে সেতুচুল দোতারা, দোলা দোলা সেতু।দুলে উল, উল দোতারা ম্যাথম্যাটিক্যাল / N ∙ 0″