বইমাত্রিক রাহুল গাঙ্গুলি

অবচেতনা পেরিয়ে বিমূর্তাভিমুখী অনুসন্ধান

(বাংলা কবিতাভাষার ভিন্নতর ভ্রমণ)
বই : ৪৪৪
কবি : পরেশ মন্ডল
প্রকাশনা : বিশ্বজ্ঞান
প্রচ্ছদ : প্রণবেশ মাইতি
১ম প্রকাশ : ১৯৭১

পূর্ব ও প্রচল’কে নিয়ে সবসময় আগামী।অবশ্য পূর্ব কেবলমাত্র স্থায়ী হলেই, তা থেকে প্রচলের উদ্ভব।ত্যামোনই ~ অতীতের গহ্বরে থাকা ক্রমাগত থিতু হওয়া প্রচল না থাকলে, আগামী অতিতেরই ছায়ালব্দ্ধ রূপ ছাড়া কিছু নয়।আর এখান থেকেই ~ ভিন্ন দৃশ্য দ্যাখার প্রয়াস // তথা, ভিন্ন চিন্তাভাবনা // তথা বদ্ধতাগ্রস্ত একঘেয়েমি’র বার্ধক্য থেকে স্বমুক্তির প্রাণপণ চেষ্টা।একটু খেয়াল করলেই দ্যাখা যাবে, ইতিহাসে তথাকথিত শিল্প উৎকর্ষতার ডকুমেন্টেশন বিশ্বের সেখানেই প্রবল; যেখানে নতুনের প্রয়োজনে অনুসন্ধান তথা নিরীক্ষা প্রবণতার রাস্তাটিতে চলা হয়েছে বেশী।নিরীক্ষা প্রবণতাযুক্ত রাস্তাটি হয়তো আপাতভাবে শুরুতে আলোচিত হবার আলোড়ন তোলে না; কিন্তু যখোন সেই প্রবণতা নতুন পথের সন্ধান দিয়ে ফ্যালে ~ সেই নতুন পথে চলার প্রবণতাটির ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে, হয়তো পাওয়া যাবে কোনো এককোণে গুটিসুটি মেরে রয়ে গ্যাছে অতীতের কোনো এক সময়ে ঘটা সেই নিরীক্ষাংশটির উৎস ও চলমানতা।অনেকটা সেই ~ নদীস্রোতটির মতোন, যা একরৈখিকভাবে চলতে চলতে কোনো এককালে কোনো দৃশ্য বা অদৃশ্য আড়ালে আঘাত আয়োজনে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে, নতুনভাবে আবহমান পথ বেছে নিয়েছে।হয়তো এটাই প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক প্রায়-বৃত্তীয় প্রাক্তন থেকে সামনের দিকে এগিয়ে চলার নিয়ম।

যাইহোক, ফিরে আসি শিল্প উৎকর্ষতার বিষয়টিতে; যদিও খুব বিশদে এবিষয়টি আলোচনা করার জায়গা এটি নয়।তবে প্রাসঙ্গিকভাবে কয়েকটি কথা বলাই যায় ~ ইউরোপ / আমেরিকা’য় কবিতা চর্চা ধাপেধাপে যেভাবে বর্তমান সময়ে পৌঁছেছে, ভারতবর্ষের কবিতা চর্চা অতীতের কিছু সময়ের চরম উৎকর্ষতায় পৌঁছেও বর্তমান সময়ে স্বতন্ত্র নয়।অথচো, চীন / জাপান / মধ্যপ্রাচ্য অনেক পরে শুরু করেও, নিজস্ব কিছু সাংষ্কৃতিক স্বতন্ত্রতা : আজও বহাল।লাতিন আমেরিকা য্যামোন সবচেয়ে দেরীতে শুরু করলেও, বর্তমানে সম্পূর্ণ ভিন্নস্তরে নিয়ে গেছে নিজেদের।এর কারণ সম্ভবত ~ নিরীক্ষা প্রবণতাগুলি চর্চার অভাব // প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যরীতি’র মিলনকে অস্বীকার // কুসংস্কার ও জাতিধর্মের অতিরিক্ত কূপমণ্ডূকতা // ইত্যাদি অনেক কিছুই বলা যায়।
বাংলা কবিতাধারাটিও এসবের বাইরে নয়।সময়ের দাবিকে অস্বীকার করে, জোর করে যে অতীত লেখভাষ্য ভঙ্গিমাটিকে বুকে আঁকড়ে ~ যে বদ্ধ জলাটির সৃষ্টি হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই হলফ করে বলা যায় : নিরীক্ষা প্রবণতাযুক্ত পথটির অনুসন্ধান চর্চা ধাপেধাপে গড়ে না ওঠা।উল্লেখযোগ্য ~ ১৮শতকের প্রায় শেষপর্বে মাইকেল মধূসুদন দত্তের হাত ধরে বাংলা ভাষায় যেভাবে পাশ্চাত্ত্য গঠনরীতি নিয়ে অনুসন্ধানের পথটি যেভাবে ঢুকে পড়ে // বা, রবীন্দ্রপক্ষের ভাবময়তা পেরিয়ে যেভাবে গত শতকের ৩০’র দশকের পরাবাস্তববাদী গঠন // বা ৪০ ও ৫০’ রোমান্টিক চিত্রকল্পতা পেরিয়ে, ৬০’র দশক থেকে বাংলা কবিতার নিরীক্ষালব্ধ আবেদন : অনেককিছুই আসতে পারে।আর এখান থেকেই আজকের বইমাত্রিক আলোচনার কেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করছি।

গত শতকের ৬০’র দশক থেকে যেকটি সাহিত্য সংক্রান্ত আন্দোলন বাংলাভাষায় গড়ে ওঠে, তার একটি অন্যতম ছিলো শ্রুতি আন্দোলন।এই প্রসঙ্গে এর আগে, শ্রুতি আন্দোলন নিয়ে ডকুমেন্টেড্ ‘পদ্য’ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যাটি নিয়ে যা লিখেছিলাম, তা আরেকবার স্মরণ করছি ~ “হাংরি ধারার আন্দোলনের মূল জায়গাটি যেখানে “যেকোনো জাগতিক ঘটনার প্রকাশকে, অস্তিত্বের নেপথ্যে থাকা পঞ্চইন্দ্রিয় দ্বারা চেতনার সংযোগরেখা দিয়ে উপলব্ধি” এভাবে করা হয়েছে (অর্থাৎ, আগে ইন্দ্রিয় তারপর চেতনা বা ইন্দ্রিয় ব্যতীত চেতনার জায়গা নেই); অপরপক্ষে শ্রুতি ছিলো “যেকোনো জাগতিক ঘটনাকে চেতনার কেন্দ্রাতিগো অঞ্চলের মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করা এবং তার প্রকাশ; এখানে ইন্দ্রিয়ের নিজস্ব উপলব্ধি নেই, পঞ্চেন্দ্রিয় স্রেফ একটি মাধ্যম যা চেতনা দ্বারা নিয়ন্ত্রিতো” (অর্থাৎ, আগে চেতনা পরে ইন্দ্রিয়)।যদিও ষাটের দশকে এই দুই আন্দোলন ছিলো পরস্পর বিরোধী, মূলতঃ যার কারন ছিলো হাংরিধারার যৌনতাকেন্দ্রিক শিল্প। তবুও আজ ২০২০তে দাঁড়িয়ে (যখোন যৌনতাভিত্তিক্ বিভিন্ন ট্যাবু বা সংষ্কার ধীরেধীরে ভেঙে যাচ্ছে), এই দুই ধারার বিরোধীতায় না গিয়ে : মনে হয় ~ ভিন্ন একটি তৃতীয় ধারার সন্ধান পাওয়া যেতে পারে প্রকৃত চর্চায়।হাংরি’রা যেখানে যাপনপ্রসূতো শব্দ এবং যাপন তীব্রতা; এই দুই বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছিলেন || সেখানে শ্রুতি’র কবিরা অনেকটাই ছিলেন প্রশান্ত মহাসাগরের মতো শান্ত ও গভীর।শ্রুতি’র কবিরা চেয়েছিলেন শব্দের আবহমান কাঠামোকে ভাঙচুর করে, তার অভ্যন্তরীণ গতিশক্তি দ্বারা ধ্বনি এবং ধ্বনিকল্পনার ইমেজ্ বা দৃশ্য মাধ্যমে নতুনধারা গড়তে (চিত্রকল্প শুধু শব্দার্থ দিয়ে নয় ~ শব্দার্থ ভেঙে তার অভ্যন্তরীণ ধ্বনি ও অবয়ব : উভয়ের যৌথ মিথোষ্ক্রিয়া)।এই দুই ধারার কবিদের কাছেই, ‘সময়’ বিষয়টির যাপনলব্ধ আত্তীকরণ ছিলো ভিন্ন।কবিতা এবং সে কবিতায় চেতনাকেন্দ্রিক নতুন চিন্তাধারার কীভাবে প্রণয়ন ~ এ সম্পর্কিতো বিষয়টি নিয়েও উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ শ্রুতির কয়েকটি ভিন্নধারার কাজ; য্যামোন ~ যতিচিহ্ন সম্পূর্ণ রূপে বর্জন / টাইপোগ্রাফি এফেক্ট / শূন্যস্থান বা স্পেস ব্যবহার, এমনকি চিত্রশিল্প ও কবিতার আভ্যন্তরীণ বিষয়গুলিকে একত্রিকরণ, বা কবিতায় শব্দার্থ বিন্যাসটিকে জ্যামিতিক আকার প্রয়োগে নতুন দৃশ্যের সার্থক রূপান্তর প্রদান, ইত্যাদি এসেছে।যাঁরা ইউরোপীয় ঘরানার পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার কংক্রিট পোয়েট্রি বা সাবয়ব / স্বাকৃত কবিতা নিয়ে খোঁজখবর রাখেন; বাংলা-কবিতায় সেইরকম একটা প্রবণতা অভিমুখী যাত্রার শুরু দেখে অতি অবশ্যই বিস্মিতো হবেন বলেই বিশ্বাস।” যদিও গত শতাব্দীর ৩০/৪০দশকে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত ‘গ্রীষ্মের সুর’ বা কবি অমিয়ভূষন চক্রবর্তী রচিত ‘পিঁপড়ে’ কবিতাটির, ইত্যাদির সাথে এই শ্রুতি আন্দোলনে যুক্ত কবিদের রচিত কবিতাগুলির অল্প কিছু প্রাথমিক সাদৃশ্য পাওয়া যায়, তা সত্ত্বেও শ্রুতি আন্দোলন ছিলো বাংলাভাষার এক ভিন্নমুখী স্বতন্ত্র স্বর; যা প্রভাবিত করেছিলো পরবর্তী সময়ের বেশ কিছু কবির চিন্তাধারা তথা কবিতারূপটিকে।

শ্রুতি আন্দোলনের প্রধান চার কবি : পরেশ মন্ডল / পুষ্কর দাশগুপ্ত / সজল বন্দ্যোপাধ্যায় / মৃণাল বসুচৌধুরি।সম্প্রতি, পদ্যপত্র পত্রিকা সম্পাদক অর্পণ পাল ও তার কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুর উদ্যোগে, শ্রুতি আন্দোলনে যুক্ত কবিদের কিছু বইয়ের ডিজিটাল সংরক্ষন সম্ভব হয়েছে।যার মধ্যে, আজকে আলোচনার বিষয়বস্তু যে বইটি ~ তা হলো পরেশ মন্ডল রচিত কবিতার বই “৪৪৪”।বইটির অধিকাংশ লেখাই শ্রুতি আন্দোলনটির শেষভাগে লেখা (১৯৬৫ – ৭১) এবং সেগুলি শ্রুতি পত্রিকা ছাড়াও, অন্যান্য পত্রিকা য্যামোন ‘ঈগল’ // ‘কালক্রম’ // ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত।এ পর্যন্ত পড়ে, অনেক পাঠকই ভাবতে পারেন ~ একটি বই নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে, এতো দীর্ঘ ভূমিকার অবতারণা ক্যানো? উত্তর আলাদা করে না দিলেও, পরবর্তী অংশের আলোচনায় এই ভূমিকাটি অতি প্রয়োজনীয় ছিলো বলেই হাতেকলমে প্রমাণিত হবে বলেই বিশ্বাস।
মোট ৪০টি কবিতা নিয়ে তিন ফর্মার বই; যার প্রতিটি কবিতার শিরোনাম কবিতার তলায় তারিখ সহ।এ পর্যন্ত এই দৃষ্টান্ত আমাদের কাছে বিরল, আর ১৯৭২ সালে এ ঘটনা বিরলতমো তো বটেই।হয়তো কবিতামাত্রার প্রচলিত অভ্যস্ততার রেখাচিত্রটিকে নতুন কোনো ভাবনার জারনে গাঁথনির চেষ্টা এখান থেকেই।যাইহোক, সর্বপ্রথম বইটির প্রচ্ছদ দিয়ে শুরু করা যাক।প্রণবেশ মাইতি মহাশয়ের করা প্রচ্ছদটি দেখলে প্রথমেই চোখে পড়ে ~ বেশ কয়েকটি বৃত্তস্থ অংশের প্রতিটিতে বিভিন্ন রকমের চিহ্ন; যা অতীত সভ্যতার বিভিন্ন অগ্রগতির ধারক, সেটা গুহামানুষ কৃত শিলালিপি থেকে তার উন্নততর সময়ের ধারক প্রতিভূ।আর এখানেই আমরা ধরে নিতেই পারি ‘৪৪৪’ একটি গতিময় অভিমুখী মান : যা সময়ের সাথে সময়বলয়কে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ক্রমশঃ অগ্রণী।আর এখান থেকেই প্রথম কবিতা “শিলালিপি”, সম্ভবত যথাযথভাবে হওয়াটাই উচিৎ ছিলো।

কবিতাটিতে শব্দার্থ বিন্যাস এমনভাবে ~ সময়ের এই গতিময়তার প্রবাহ প্রতি পঙক্তির শুরু থেকে শেষ; অথচো শব্দার্থ ভাব য্যানো প্রবাহটিকে শেষ হতে দেয় না।অসংখ্য চিত্রকল্প প্রত্যেকটি শব্দার্থ সমন্বিত // আপাত উপমাহীনতা // কেন্দ্র অভিমুখীন বরাবর একের সাথে আরেকের সমান্তরাল গতিপথ বুনন // একটি শব্দার্থ প্রয়োগে সম্পূর্ণ বাক্যের ব্যবহার // সর্বপরি পাশ্চাত্ত্য গঠনরীতিতে প্রাচ্যীয় ভাবনাকল্পের ডকুমেন্টেশন দ্বারা প্রাচ্যপাশ্চাত্য মিলন // ভাষার বিবর্তনটিকে সামনে রেখে রূপকল্পনার আদর্শ শব্দ-ভাষ্কর্য স্থাপন // ইত্যাদি বহুবিধ বিষয়; বিশ্লেষণ করলে সামনে উঠে আসে।ঠিক এরকমই প্রবাহ চলতে থাকে দ্বিতীয় কবিতাতেও; শিরোনাম “দুপুর”।

 

এখানেও যদি দেখি ~ স্বল্প শব্দার্থ প্রয়োগ ও বিন্যাসে সর্বগুন সম্মত একটি সার্থক কবিতা অবতারণা।খেয়াল করলে, মোট তিন পঙক্তিতে ২১টি শব্দার্থ।আরো একটু ভাবলে ~ পঙক্তির শেষ এমোন একেকটি বিচ্ছিন্ন শব্দার্থ দিয়ে; যা পঙক্তিটির নিজস্ব গোটা খন্ডচিত্রটিকে সম্পূর্ণতা দেবার সাথেসাথেই, ঢুকে যাচ্ছে পরবর্তী অংশে।ফলতঃ এই যে অভ্যন্তরীণ শূন্যতা বা শূন্যাংশ নয় ~ উভয়ের আকর্ষণ/বিকর্ষণে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন দ্যোতনা // ফলতঃ বিচ্ছিন্ন এই শব্দার্থরা নিজেই একেকটি নতুনধারার দ্যোতক।এমনোই আরো একটি কবিতা, শিরোনাম “রথ” ~ যেখানে পূর্ববর্তী প্রকরণগুলির সাথে রয়েছে লজিক্যাল্ মিসিং লিঙ্ক ও তার অদ্ভুত একপ্রকারের স্বচেতনার হ্যাংওভার এবং সাংখ্যিক দৃশ্যের প্রয়োগ।জোড়/বিজোড় অনুপাতের এই অদ্ভুত সাংখ্যিক মেলবন্ধন একাকার হয়ে গ্যাছে আগের লাইনের বিশেষ্যপদ জনিত শব্দার্থত্রয়ীর সাথে।এছাড়াও খেয়াল করলে দ্যাখা যাবে কবিতাপাঠটিও না চাইলেও সৃষ্টি করছে স্পেস বা অন্তর্বর্তী শূন্যতা ~ যেটি চিত্র থেকে চিত্রান্তরে বা পর্যায় থেকে পর্যায়ান্তরে যাবার একাধারে ধারক ও বাহক।এছাড়াও কবিতার শুরুতে থাকা প্রশ্নচিহ্নটির সিনট্যাক্সিক্যাল্ প্রয়োগ মস্তিষ্কে ঝড় ওঠাবার জন্য যথেষ্ট।

সময়োচিত উপলব্ধ মুদ্রণরীতি দ্বারা শব্দার্থবন্ধনীর পরিবর্তনের সফল প্রয়োগে, কিভাবে ভাব//ভাষা//আভ্যন্তরীণ ফলিত গঠন ও বিন্যাস // ইত্যাদি কতকিছু যে নতুন করে চিন্তায় আনা যায় ~ আমরা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতেই পারি একাধিক কবিতা : “সে” // “মহাদেশ” // “শূন্য” // “বিকল্প” // ইত্যাদি; সেরকম “কবিতা ৪”এ ভাষা তথা শব্দার্থ ভেঙে, তার আণবিক অংশটির চলন/গমন/প্রাণশক্তিটিকে স্বতন্ত্রভাবে দ্যাখানো; আবার ত্যামোনই আদর্শ বাংলা ভিস্যুয়াল কবিতাধারা ~ “কম্পোজিশন ১ & “কম্পোজিশন ২”।

এবারে আসবো কবিতা, শিরোনাম ‘৪৪৪’ ~ কবিতাটি অনুভব করলেই যা চোখে পড়বে : শব্দার্থের সার্থকতার সাথে সমান্তরাল ধ্বনি aestheticsর চূড়ান্ত ইলাস্ট্রেশন্।’আমি’ শব্দার্থটি থেকে ‘ই’ শব্দটিকে একাধিকবার ক্রমাগত পৃথক করে বিয়োজন ঘটানো বা ‘কোথায়’ শব্দার্থটির পর একাধিক ‘∙∙∙∙∙’চিহ্নের প্রয়োগ ~ এককথায় য্যানো, লিপি বা চিহ্ন অন্তর্গত সভ্যতা, নিজেই মুক্তি পেতে প্রবলভাবে বদ্ধ পরিকর।

এছাড়াও “লুনা ১৭” // “এনাগ্রাম” // “Zero hour-এর কবিতা” ~ ফরাসি সাহিত্যের প্রথম পর্যায়ের কংক্রিট কবিতা রচয়িতা অ্যাপলোনিয়ের / মালার্মে / লুই আরাগঁ / প্রভৃতি দিকপালদের আদর্শ অনুসরনে ভারতীয় তথা বাংলার সংষ্কৃতি সম্পন্ন চিত্রকল্পতার আদর্শ ও সার্থক মেলবন্ধন।এমনকি শেষ কবিতা, শিরোনাম “নক্ষত্রপুঞ্জ ১” যে একটি সার্থক asemic ধারার কবিতা (যাকে বর্তমানে গোটা বিশ্বজুড়ে বলা হচ্ছে একটি পোস্ট আঁভাগার্দ মুভমেন্ট), সেটি বললেও তাতে কোনও ভুল নেই।আর, পরিশেষে কেবল এটুকু বলেই শেষ করবো ~ শ্রুতি আন্দোলনের সময়কার এই কবিতা বইটি, আন্দোলনটির সাথে যুক্ত বাকি বইগুলির মতোনই আসমুদ্রহিমাচল কবিতা পাঠকের কাছে এমোন একটি চ্যালেঞ্জ, যা না নেওয়া মানে নিজেকে বদ্ধ জলায় আটকে রাখা।হয়তো এসবের দিক থেকে “৪৪৪” একটু বেশিই।সুতরাং নিভৃতচারী কবি পরেশ মন্ডলের চর্চা না করাটা আমাদের কাছে অতি অবশ্যই অপদার্থতা।আর এরকমই একটা দায় থেকে বলি, অন্তরের দায় থেকেই ভবিষ্যৎে এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত ~ বাকি কবিদের রচিত কবিতার বইগুলিও আলোচনায় থাকবে (অন্ততপক্ষে যেকটি হাতে আপাতত আছে)।

আলোচনা : রাহুল গাঙ্গুলী

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।