গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৩৩)

নীল সবুজের লুকোচুরি

আরিয়ানেরো বোধহয় তেমনই কিছু মনে হয়েছিল। একটু অবাক হলেও নিজের মনের কথা মনেরেখে সবাই কাজে মন দেয়। যখন সূর্যদেব মাথার ওপরে উঠে গেছেন তখন সবাই লাঞ্চের জন্য রেডি হয়ে হলে পৌঁছোয়। প্রত্যেকে নিজের তথাকথিত খোলস মানে এপ্রোন ছেড়ে রেখে খাবার টেবিলে আসে।

সেখানে আরিয়ানকে দেখে মিঠির খুব ভালো লাগে। আরিয়ানের হাসি মাখা মুখটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে ও কতোটা খুশি হয়েছে। আরিয়ান এবার ওর সঙ্গে থাকা ডাক্তারের সাথে মিঠির পরিচয় করিয়ে দেয়। “ডঃমৈত্র, মিট মাই মম ডঃ সাহানা আখতার এন্ড মম সি ইজ ডঃ আয়ুস্মিতা মৈত্র হুম আই মেট লং এগো।” সাহানার মুখে মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে পরে। মিঠির প্রশংসা করে তিনি কত কিছুই বলছেন। কিন্তু মিঠির কানে সেসব কথা ঢুকছেনা। কয়েক সেকেন্ডের জন্য একটু অন্যমনস্ক হয়ে পরেছিল মিঠি।
সাহানা নামটা মিঠি কোথায় যেন শুনেছে কিন্তু ঠিক এখনই মনে করতে পারছে না। যাইহোক, আজকের মত গুরুত্বপূর্ণ একটা দিনের ওপিডি নিয়ে সকলেই আলোচনায় ব্যস্ত হয়ে পরেন। বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের মধ্যে ক্রিটিক্যাল কেস তেমন না থাকলেও বয়সের কারণে অনেকেই হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত। তাদের প্রয়োজনীয় ‘এড’ দেয়া হয়েছে। সাবধানে থাকার পরামর্শও দেয়া হয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গের মতো এলাকায় আধুনিক পরিষেবার যে যথেষ্ট অভাব রয়েছে একথা উপস্থিত ডাক্তারদের আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে।

আগামী দিনে এখানে একটা দশ শয্যা বিশিষ্ট ‘প্রসূতিসদন’ হবে শুনে ক্যাম্পে আগত দূরদূরান্তের মানুষের মনে একটা নতুন আশা জেগেছে। সেবাসদনে’র উদ্যোগে এই বিশাল আয়োজনের প্রশংসায় তারা পঞ্চমুখ। প্রবেশপথের পাশেই খবরের কাগজের উপর রং দিয়ে লেখা রয়েছে ” স্বনামধন্য ডাক্তার আনসারির একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে শীঘ্রই খোলা হচ্ছে” আনন্দময়ী প্রসূতি সদন”। আশ্রমে আগত সকলের পক্ষ থেকে ডঃআনসারিকে আন্তরিক অভিবাদন জানানো হচ্ছে। আগামীকাল এই ক্যাম্পের শেষদিন আশাকরা যায় কাল ডাক্তার আনসারি নিজের দেয়া কথামতো আশ্রমে উপস্থিত থাকবেন।

 

আসছি পরের পর্বে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।