গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী

গ্রুমিং এফেক্ট

আরে রীতিকা যে!!
কতদিন পর দেখলাম।
সেই পৌষালির বিয়েতে তোর সাথে দেখা হয়েছিল আর তারপর আজ। মাঝে কতোদিন পার হয়ে গেছে তাইনা! প্রায় পাঁচ বছর পর দেখা হল তোর সাথে। কি যে ভালো লাগছে!

পরমা আর রীতিকা ছোটবেলার বন্ধু। সেই অবুঝ বয়স থেকে একই স্কুলে, একই টিচারের কাছে কোচিংয়ে পড়েছে।
রীতিকার বিয়ে হয় পরমার আগেই। তবে পরমার বিয়েতে রীতিকাই ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে।
কারণটা অবাক করা। যার সাথে রীতিকার বিয়ে হয়েছে সেই ছেলে ডিফেন্সে চাকরি করে। বৌকে নাকি চোখে হারায়! বৌয়ের সব আব্দার পূরণ করে। বৌকে ছেড়ে থাকতে পারে না।
তাইতো বিয়ের পর থেকেই রীতু বরের সাথে বাইরে থাকে। আর বরের প্রতিটা ট্রান্সফারে ওরা থাকে হলিডে মুডে। একটা নতুন জায়গা দেখা আর বেশ কিছুদিন থাকার ফলে লোকাল পাবলিকের সাথে মেলামেশার সুযোগ হয়। বিভিন্ন প্রদেশের কালচার, খানপান, রীতরিওয়াজের সাথে একটা মেলবন্ধন ঘটে। ফলে নিজেকে গ্রুম করে একটা আল্ট্রা এট্রাকশন ক্রিয়েট করা যায়। আর সেলফ গ্রুমিংয়ের ঝাঁ’চকচকে এফেক্ট কাকে বলে সেটা রীতিকা কে দেখলে বোঝা যায়। ফেটেপড়া গ্ল্যামার নিয়ে রীতু ভীষণভাবে এক্টিভ।

তবে পরমা যেহেতু রীতিকার বেস্ট ফ্রেন্ড তাই পরমার বিয়েতে উপস্থিত থাকতেই হবে রীতুকে। সেজন্য রীতু বরকে বুঝিয়ে দশদিনের “ক্যাজুয়াল লিভ” নিতে বাধ্য করিয়ে সাথে নিয়ে এসেছিল।

তারপর আজ এই এতদিন পর দুজনের দেখা হল। পরমার তিনবছরের মেয়েটাকে কোলে নিয়ে রীতিকা খুব আদর করল। পরমা মেয়েকে বলে–আন্টিকে থ্যাঙ্কু বোলো বেটা। মেয়ে ও মায়ের কথা শুনে বলে, ‘থ্যাংকস আন্টি। মম্, অব ম্যাঁয় জাউঁ ফ্রেন্ডস কে পাস? বাই আন্টি “- বলে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে দৌড়ে চলে যায় দূরে বাচ্চাদের কাছে।
রীতিকা বলে – তোর মেয়েটা যেমন কিউট তেমনি স্মার্ট। কি সুন্দর কথা বলে। আমরা ছোটবেলায় এতো স্মার্টলি বড়দের সাথে কথা বলতে পারতাম না। আজকালকার বাচ্চাদের
গ্রুমিং এতো ভালো যে ওরা সহজেই নিজেকে এক্সপ্রেস করতে পারে। ইজ সো স্মার্ট ইউনো। এন্ড লুকিং লাইক এ আ লাভলি বার্বি জাস্ট লাইক ইউ।
ওরে এবার থাম।
অনেক হয়েছে।
তোকে আর জ্যাক দিতে হবে না।
বেশি হাওয়া দিলে আমার ব্লাডারটা পাংচার হয়ে যাবে– বলে হেঁ হেঁ করে হেসে ওঠে পরমা।

এরমধ্যেই একটা ছেলে ছুটে এসে রীতুকে জড়িয়ে ধরে বলে, “চলোনা মাম্মা, সবলোগ ডান্স কর রহেঁ হ্যাঁয়। আপভি চলো মেরে সাথ।”
পরমা রীতুর ছেলেকে বলে, “আপ ঋদ্ধি হো না? আররে, ম্যায়নেঁ তো আপকো দেখা হি নেহি।
কিতনা কিউট লগ রহে হো আপ ! ম্যাঁয়
আপকো এক জাদুকি ঝাপ্পি দেনা চাহতি হুঁ, প্লিজ পারমিট মী।” – বলেই রীতুর ছেলেকে কোলের কাছে নিয়ে আদর করতে থাকে। ঋদ্ধি মায়ের দিকে হাত বাড়িয়ে পরমার আদর থেকে ছাড়া পায়। তারপর মায়ের হাত ধরে ছুটতে শুরু করে যেখানে সবাই ডান্স করছে। রীতিকাও ছেলেকে এনকারেজ করার জন্য হালকা হালকা স্টেপস শুরু করে” তেরি বাতোঁ মেঁ এয়সা উলঝা জিয়া”… গানের সাথে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।