গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ২৯)

নীল সবুজের লুকোচুরি
ওদের স্পর্শে কতশত অসহায় যন্ত্রণাময় জীবনে শান্তির পূণ্য পরশ লেগেছে। ওরাই তো আগামী ঊষার নতুন পথের অগ্রদূত। ওরাই প্রকৃত মানবতাবাদের বার্তাবাহক। পবিত্র জীবন পথের দিশারী। চোখের সামনে ওদের দেখলে ঈশ্বর দর্শনের পূণ্য হয়।”
একনাগাড়ে এতগুলো কথা বলে মাদার একটু চুপ করে থাকেন। হঠাৎ ডাক্তার আনসারির দিকে চোখ পড়ে। স্বনামধন্য ডাক্তারের চোখ এই মুহুর্তে সুদূর আকাশের দিকে। কিছু একটা ভেবে মাদার আবার বলে ওঠেন,” যদিও আমাদের জীবনে জন্মমৃত্যুর এই চক্র পরম করুণাময়ের কৃপায় সংঘটিত হয়ে চলেছে তবুও প্রতিদিনের সংসারে আমরা মাঝে মাঝে বড্ড অবুঝ হয়ে পড়ি। অভিমানী মন আমাদের অজান্তেই কখন যে কাকে কোথায় আঘাত দিয়ে ফেলে নিজেরাই বুঝতে পারি না। যদি আমার কথায় আপনি দুঃখ পেয়ে থাকেন তবে আমি ক্ষমা চাইছি।”
ডাক্তার সাহেব যেন কেমন একটা অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলেন মাদারের দিকে তারপর আদাবের ভঙ্গিতে মাথাটা নিচু করে ধীরে ধীরে বেড়িয়ে গেলেন। মিঠি এতক্ষণ এখানেই ছিল। মনটা ওরও কেমন উদাসপুরের পাখির মতো ডানা ঝটপট করছে কিন্তু মুখে কোন কথা নেই। কেবল ওর শ্রদ্ধেয় স্যারকে পৌঁছে দিতে গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। সুমিতা মাদারের পাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। জীবনের আনন্দ বেদনার মুহূর্তগুলো কখন যে কি করে তৈরি হয়ে যায় কেউ তা জানেনা। কেবল সময়ের সাথে প্রবাহিত হয়ে ধীরে ধীরে অতীত হয়ে যায় দিনগুলি।
আশ্রমের প্লাটিনাম জুবিলি উপলক্ষে বিগত চারদিন ‘সেবাসদনে’ ফ্রি হেলথ চেকআপের ক্যাম্প চলছে। আগামী তিনদিন আরও অনেক ডাক্তার আসবেন। স্থানীয় মানুষজন এই সুযোগে ডাক্তার দেখাতে পারছেন বলে খুব খুশি। এটা তাদের কাছে যেন একটা আশীর্বাদ। তাই আশেপাশের এলাকা থেকে সকাল সকাল লোকজন এসে হাজির হচ্ছেন। যত দিন পার হচ্ছে ভিড় তত বাড়ছে। আজ আবার সকাল থেকে আকাশ গোমরামুখো হয়ে রয়েছে।এই কনকনে শীতের হাওয়ায় সাথে যদি বৃষ্টি হয় তবে এই এত লোকের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হবে।
আসছি পরের পর্বে