কবিতায় বলরুমে রীতা চক্রবর্তী

জীবন পিয়াসা
সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে রাত নেমে আসে।নিকোনো উঠোনের কোণে আশালতায় লাগে সবুজের ছোঁয়া।
প্রতিদিনের যাপনপথের রুক্ষ বাতাস শুষে নেয় তার সমস্ত প্রাণশক্তি।
তখন সে উঠোনে পড়ে থাকে শত শত স্বপ্নের
মুহূর্তেরা প্রাণহীন।
সহ্যের সীমানা পেরিয়ে অস্থিরতায় ভরে যায় মন।
পরিপূর্ণ বিরক্তিতে জন্ম নেয় বিতৃষ্ণারা। ভালোলাগার গাঢ় সবুজ পাতা হতাশার জঙ্গলে ঢাকা পড়ে।
রং উড়েযাওয়া ধূসরপ্রাণ একটু নরম মাটির আশ্রয় খোঁজে।
বেঁচে থাকার এই লড়াই দিন দিন কঠিন হয়ে ওঠে।
আপনত্বের দোহাই দিয়ে সম্পর্কের কেউটের বিষাক্ত ছোবলে নীল হয়ে যায় সুখপাখিটা। তবুও জাপটে পড়ে থাকে অসহায় মূল্যবোধ।
অথবা প্রাত্যহিক জীবনের একটা ছাদের নিরাপত্তা।
বিলাসবহুল জীবনে দানাখুঁটে বেঁচে থাকার ঝুটো অহংকার।
বিবেকবুদ্ধি বনবাসে পাঠিয়ে মাটি কামড়ে পড়ে থাকার দমটাও কুর্নিশের দাবিদার।
ভাত-ডাল, নুনঝালের যুদ্ধে জয়ের হাসিটা দখলে থাকে তার।
তারপরেও কি তার রূপকথারা তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে কল্পনার জালবোনে?
কোনো ব্যঙ্গমা- ব্যঙ্গমীর রহস্যময় ঠিকানা কি
তার মুঠোয়?
তাইতো অভিমন্যুর চক্রব্যুহ ভেদকরে বাঁচে সে জীবনের পিয়াসায়।