T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় রূপক চট্টোপাধ্যায়

নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ও ধূর্ত কিশোর
১)ধীরে ধীরে বশ্যতা স্বীকার করেছি তোমার।
একদিন নয়। সুকৌশলে জাল ফেলেছো,
বুঝতেই দিলেনা তুমি কি
নয়ণ জোড়া ধুরন্ধর!
পৃথিবীর এককোনায় ভিক্ষা লব্ধফল নিয়ে
সাজানো অহমিকা চূড়ায় গেঁথেছি আমার
মেঘলা পতাকা। ভেবেছিলাম এই তো
সুবর্ণ বিজয়। এই তো জামার কলার তুলে
বেঁচে থাকা। খিস্তি উড়িয়ে উড়েযাওয়া মনুষ্য সন্তান!
বুঝতে পারনি তুমিও চতুর শ্যামল কিশোর!
আহীর ভৈরবে টেনে আনো সুরের শেকল দিয়ে
আমার আহত মনুষ্যজন্মের তীব্র চৈত্র তাপ!
তাই নতজানু হয়েছি নক্ষত্র বন্দিত চরণের কাছে,
দাও যত মেঘ মন্ত্রে জল আছে
দাও স্নাপ্ত করে তোমার কৃতদাসে!
২) তুমি তো কুলঙ্গি গোপাল।
বিবর্ণ দোওয়ার মাঝে এক খন্ড চন্দ্রকলাভাস!
বাতাসের শরীরে যখন নিম সন্ধ্যা মাখা,
ধূপের সুবাসিনী এসে
শঙ্খ ধ্বনিতে জানায় দিবাবসান। কেতকী জ্বলে!
ঘরে ফের হাসের দলে কিশোরী উচ্ছলিত,
দিন মন্থন শেষে হকারদের খুচরো গোনা, শ্রমস্নান,
চায়ের দোকানে শ্রেণীবিন্যাস ভেঙে
জটলা আরো জটিল হয়ে ওঠে।
আমি তোমার কাছে বসি,
গভীর নদীর জল পত্রিকায় মনে মনে
তোমার জন্য লিখে ফেলি গীতগোবিন্দম্!
৩) স্নানের আগে সমুদ্র এঁকেছি
প্রণামের আগে তোমার দু’খানি চরণ।
আমায় যেমন খুশি সাজিয়ে দাও
ভবঘুরে, চাঁড়াল
অথবা তোমার অরুপে কৃষ্ণ কালো বরণ!
৪) একদিন মৃত্যুর মুখোমুখি চা চক্রে বসতে চাই।
সম্ভবত বিকেলের দিকটায়। সবুজ ঘাসের নরমে
মাঠে বসে সস্তা সিগারেট ধরাবো। ফুঁ দেবো।
ধোঁয়ার ভেতর বন্ধুর মতো অস্পষ্ট মুখশ্রী তার
মোহন বাঁশিতে আরো স্বর্গীয় লাগবে হয়তো!
৫) তোমার আমার বন্ধুত্বের মাঝে কোন ঈশ্বর
থাকতে নেই। তুমি রাখিও নি তাই।
রোজ দেখি মাথায় সংসারের
অদৃশ্য গোর্বধন পাহাড় নিয়ে
কিশোর টোটো চালক সন্ধ্যাবেলা বাঁশিতে
ঠোঁট ছোয়ায়, আর সমস্ত শহর কেমন করে
নির্জন যমুন বয় একূল ওকূল!
৬) আমি তোমার ব্রজ সুন্দরীকে চিনি,
হলুদ শাড়ি পড়ে
বেনী দুলিয়ে কলেজে যায়। হৃদয় ঘটিত
যমুনা পুলিনে কোথাও ডেকে ওঠে সুকসারি।
কোথাও হাঁটু জলে ভেসে যায় তাম্বূল খন্ড।
আড়ালে আড়ালে আমিও হাঁটি
খগের কলমটি নিয়ে, নিঝুম তমালের বন।
সব লিখতে হবে আমায়। অবন্তিকা জানে
আমিও অধম চাঁড়াল, আমিও পাপিষ্ঠ যবন!