গল্পেরা জোনাকি -তে রীতা চক্রবর্তী

গার্জেন

কি হয়েছে রে তোর দাদামনি?
কিরে, কি হয়েছে?
এই তুই কাঁদছিস কেন?
দেখনা, মিনু কি জোরে আমার কান টেনে দিয়েছে!
কান্না জড়ানো গলায় উত্তর দিল সাত বছরের দাদামনি তার ছ’বছরের বোনকে।
দাদামনি খুবই রোগা পাতলা। দলের সবার থেকে ছোটখাটো দেখতে। কিন্তু সবার থেকে বেশি দুষ্টুও এই ছোট্ট দাদামনি। সত্যিই তো মিনুর কাছে কানমলা খেয়ে দাদামনির কান যে লাল হয়ে গেছে। মা যদি জানতে পারে তবে ধোলাই আর মাটিতে পড়বে না। যত মায়ের মুখটা মনে পড়ছে দাদামনির কান্না ততই বাড়ছে। এতক্ষণের ফুঁপিয়ে কান্না এবার সশব্দে সজোরে শুরু হল।
বোনটি ছ’বছরের হলে কি হবে দেখতে সে বেশ বড়সড়। ছোটদের এই খেলার দলটাতে এই ছোটবোনটিই দাদামনির গার্জেন। বোনের কাছে বলা মানে একটা হেস্তনেস্ত হয়ে যাওয়া। নিজে শুধু দুষ্টুবুদ্ধি এঁটে বেড়ায় আর সবার কাছে মার খায়। কিন্তু তাই বলে দাদামনির দুষ্টুমিতে কোনো কমতি নেই। বরং বোনের দৌলতে সে সবার ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কান্না দেখার সুযোগ পায়। অন্য কেউ কাঁদলে দেখতে যে খুব মজা লাগে তার। নিজের কষ্ট বোনকে বলার পর থেকে দাদামনির কান্না আর কমছে না।
চলতো দেখি মিনুদের বাড়ি, দাদার হাত ধরে হিড়হিড় করে টানতে টানতে বোন হাজির হল মিনুদের বাড়িতে।
কাকিমা… ও কাকিমা… মিনু কোথায় গো?
এই তো ঘরেই আছে।
কি হয়েছে রে?
বলছি দাঁড়াও!
এই মিনু তুই দাদাভাইয়ের কান টেনেছিস কেন রে? দেখ তো কিরকম ফুলে লাল হয়ে গেছে।
ও আমার পুতুলের ঘর ভেঙে দিল কেন?
বা রে, আমি কোথায় ভাঙলাম?
তুই আমাকে ধাক্কা মারলি যে!
তাইতো আমি পরে গেলাম।
তুই ই তো ইচ্ছা করে আমাকে ধাক্কা মারলি যাতে আমি পরে যাই।
দাদামনি এবার আরো জোরে কাঁদতে শুরু করে।
মিনু কিছু বলবে বলে যেইনা মুখ তুলে তাকিয়েছে ওমনি ছোটবোন মিনুর গালের ওপর এক থাপ্পড় কসাল। দাদামনির কান্নার কাছে একটা থাপ্পড় বোধহয় যথেষ্ট মনে হলোনা। তাই আরও এক চড় কসানোর পর কান ধরে এমন টান দিল যে মিনু বুঝতে বাধ্য হলো কান টানলে কতটা ব্যথা লাগে! ব্যস, দাদামনির কান্না থেমে তো গেলই। এক দৌড়ে বাড়িতে ফিরে সঙ্গে সঙ্গে সবার কাছে একে একে বলে বেড়াতে লাগলো তার বোনের বাহাদুরির কথা।বিজয়ী দাদামনিকে অবশ্য তার পর থেকে আর কেউ খেলা নিতে চাইতো না সেটা আলাদা কথা। তবে বোনের বীরত্বের জয় সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছিল।
জয়তু বুনু…
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।