গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ১৪)

নীল সবুজের লুকোচুরি
তোকে খবর দিতে হলে যে শব্দ উচ্চারণ করতে হবে তা হাওয়ার কানে গেলে সন্তানের সুরক্ষা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যাবে। তাই তখন তোকে খবর দেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভেবেছিলাম তুই ফিরে এলে তোকে চমকে দেব। কিন্তু তুই তো ফিরে এলি এক রাজপুত্রের গল্প নিয়ে!
——-
তোর কাছে সাহানা আর আরিয়ানের গল্প শুনে আমি কিছুটা হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। আমি বোধহয় কখনো কোনও দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি তোর মন এত তাড়াতাড়ি অচেনা অজানা অন্য কোনো মহিলার কাছে নিজেকে সমর্পণ করবে। হয়ত বা আমার আত্মঅভিমানে আঘাত লেগেছিল। হয়ত বা মিঠিকে হারিয়ে ফেলার ভয়। জানিনা ঠিক কি হয়েছিল তবে সেই মুহূর্তে তোর থেকে দূরে চলে যেতে চেয়েছি। আমার পৃথিবীর একমাত্র অবলম্বন ছোট্ট মিঠিকে বুকে জড়িয়ে ধরে খুব চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছিল।”
—” তাই বলে আমাকে এভাবে পর করে দিবি? কখনও কি এতটুকুও আমার কথা ভাববি না? আমার যে ফুলের মত এমন একটা মেয়ে আছে সেটুকুও জানাবি না? আমার কি কোনো অধিকার নেই নিজের সন্তানের ওপর?”
—” তোর পৃথিবীতে তখন ছেলের বাবা হবার অহংকারের বেলুন উড়ছে। সে ফানুস আমি ফাটাতে যাব কেন? মেয়ে তো আমার! তুই তো কখনও জানতেই চাসনি আমার কি পরিস্থিতি ? এমনভাবে চলে গেলি যেন শিকল ছেড়ে যেতে পেরে মুক্তি পেলি! তোকে সেদিন তো কোনওকিছুতে বাধা দেইনি। আমার ইচ্ছাতেই যখন আমার জীবনে জটিলতা তৈরি হয়েছে তখন সেটা সামলে ওঠার দায়টাও আমার। আমার যে কোন অবস্থার কোন দায়দায়িত্ব তুই নিবি এমন কোন কথা তো তুই দিসনি। আর রইল আমার মেয়ের কথা, ওর জন্য আমি তো রয়েছিই। ও আমার গর্ব, আমার অহংকার, আমার উথলপাথাল পৃথিবীর একমাত্র শান্তি। ওর সান্নিধ্য পেয়ে সবাই যখন ওকে আপন বলে মনে করে শান্তি পায় তখন মানুষ হিসেবে ওর জীবন ধন্য হয়ে ওঠে। এটাই একজন মানুষের স্বার্থক স্বীকৃতি। ”
–” জানিস, আমি যখন সাহানাকে বলি ফিরে আসতে তখন ও পরিস্কার জানিয়ে দেয় যে ওর পক্ষে এই সাতসতেরোর সংসারে ফিরে আসা সম্ভব নয়। যদি ছেলেকে আমার কাছে পেতে চাই তবে আমাকে ওখানে গিয়ে থাকতে হবে। না হলে ওকে তালাক দিতে হবে। বাবা আমাকে অনেকবার বলেছিলেন ফিরে যেতে। কিন্তু আমি তো আমার দেশের সাধারণ মানুষকে উন্নত পরিষেবা দেব বলে ডিগ্রির জন্য বিদেশে গিয়েছিলাম। ওখানে থাকব বলে তো যাইনি।আর তখন তোকেও কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। একবার দেখা দিয়ে কোথায় হারিয়ে গেলি? কেমন আছিস আজকাল? কথা বলতে বলতে তোর মুখটা সেদিন কেন অমন শুকিয়ে গিয়েছিল? তুই কি বলতে চেয়েছিলি আমায়? আমার সাথে দেখা করবি বলে যদি বাড়ি এলি তবে যাবার এতো তাড়া কিজন্য ছিল তোর? আমার তো কিছুই জানা হয়নি, তাই আমার আর যাওয়া হয় নি। আর ওরাও এখন স্বাধীনভাবেই রয়েছে। আরিয়ান নিজের পছন্দের ডিপার্টমেন্ট কার্ডিওলজিতে আছে। মাঝে মাঝে আমার সাথে কথাও হয়। তবে সাহানা কোনো যোগাযোগ রাখে না। ”
–” sorry, I have no interest about fact of your personal life.”অভিমানী সুমি এখনও মুখ ফিরিয়ে থাকে আয়ানের দিক থেকে।
–“তাই বলে আমাকে একবার বলারো দরকার মনে করলি না! দূর করে দিলি আমাকে জীবন থেকে!”বলে আয়ান।
আসছি পরের পর্বে