গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৬)

নর্মদার পথে পথে 

এই হাসির লহরীর ফেনায় ডুবতে ভাসতে যখন আমরা ফিরে এসেছি ততক্ষণে রান্না খাওয়া শেষের মুখে। কোনোরকমে রুমে গিয়ে নিজেদের বাসন এনে খাবারটা নিতে পেরেছিলাম নয়তো নির্ঘাৎ সেদিন হরিমরট লেখা ছিল।
দুপুরে এই ধর্মশালায় এসে আমাদের নির্দিষ্ট রুমে বাক্সপ্যাটরা রেখে স্নানপূজা করে ফিরে আসতে এতটা সময় কোথা থেকে পার হয়ে গেল বোঝা গেল না। যাইহোক এবার বলি দর্শনের গল্প।
এখানে এসেই বাস থেকে নেমে চোখের সামনে
অস্বাভাবিক রকমের বড় ধুতুরা ফুল দেখে বেশ অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। পশ্চিমবঙ্গে আমরা কেবল হাল্কা বেগুনীসাদায় মেশানো রংয়ের ধুতুরা দেখতে পাই। কিন্তু এখানে দেখলাম গাছ ভর্তি হলুদ রংয়ের ধুতুরা। পাতার থেকে ফুলের সংখ্যা মনে হয় অনেক বেশি। ব্যাগে জামাকাপড় গামছা নিয়ে যখন নর্মদায় স্নানের জন্য যাচ্ছি তখন দেখি রাস্তার দু’পাশে অযত্নে বেড়ে ওঠা অসংখ্য ধুতুরার গাছ। তার কোনোটাতে বেগুনী, কোথাও গেরুয়া আবার কোথাও কমলা রঙের ধুতুরা ফুল ফুটে রয়েছে গাছে । আরো আশ্চর্যের বিষয় হল বোঁটা থেকে পাপড়ি পর্যন্ত প্রায় ফুট খানেক লম্বা এই ফুলগুলোর মুখ মাটির দিকে ঝুলে রয়েছে। দেখে মনেহচ্ছে যেন ওরা মাথা নিচুকরে দেবতার কাছে নিজেকে উৎসর্গ করেছে।
আজ সন্ধ্যায় মহারাজের প্রবচন রয়েছে কোটিতীর্থের ঘাটে। মহারাজের ব্রডকাস্টিং ম্যানেজারদিদি সবাইকে ঘাটে উপস্থিত থাকতে বলেছেন। ভেবেছিলাম সন্ধ্যাবেলায় নর্মদা মায়ের মন্দিরে যাবো কারণ দুপুরে আমরা যখন পৌঁছেছি তখন মূল মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। সন্ধ্যায় আরতির সময় দর্শন করা যাবে।
সন্ধ্যায় মহারাজ সপারিষদ কোটিতীর্থের ঘাটে উপস্থিত হলেন। অত্যন্ত সুন্দর ব্যবস্থাপনায় ‘ফেসবুক লাইভ ‘ টেলিকাস্ট শুরু হল। মহারাজ তপোভূমি নর্মদা থেকে উদ্ধৃতি তুলে নিজগুণে ব্যাখ্যা করে চলেছেন। সেই মধুর বচনের
সাথে এই শতাধিক মানুষের ভিড় ক্যামেরা বন্দি হয়ে ইথার তরঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে । ওদিকে মন্দিরের আরতির বাদ্য বেজে উঠেছে। আমি অত্যন্ত অস্থির হয়ে পড়েছি। প্রবচনে মন দিতে পারছিনা আবার সবার মাঝখান থেকে উঠে যেতেও পারছিনা। অবশেষে যখন মহারাজ গুরুনাম স্মরণ করলেন তখন গিয়ে দেখি মূল মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। আজ নর্মদা মায়ের দর্শন হলনা ভেবেই মনটা খারাপ হয়ে গেল। সেই রাতের আধো আধো আলোআঁধারে শ্বেতশুভ্র নর্মদা মন্দিরের বাইরে থেকেই প্রণাম করলাম।

ক্রমশ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।