T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় রাণা চ্যাটার্জী

মহালয়া

“রুপং দেহি জয়ং দেহি
যশো দেহি দ্বিষো যহি”
মহালয়া সুরের অপূর্ব মাদকতা কানে বাজতেই বিছানায় ধড়ফড় করে ওঠে জুঁই।” মা, ওমা কোথায় গেলে ,আজ মহালয়া আর আমায় ওঠাও নি কেন !?” খুব জোরে প্রশ্নটা করেই নিজেই অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে। তখনো ঘুমটা ঠিক ভাঙেনি,চোখ কচলে দেখে জানালা দিয়ে ভোরের আলো ফুটে উঠেছে কিন্ত কোথায় মা আর কোথায় বা মহালয়া বাজছে! তবে কি জুঁই স্বপ্ন দেখলো!টেবিলে ঢাকা গ্লাস থেকে জল খেয়ে একটা মনখারাপি দীর্ঘ নিঃশাস নিলো। ধুর কোথায় সেই দেশের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের সবুজ শ্যামলী গ্রাম ,আর আজ সে কিনা উচ্চ শিক্ষার জন্য কয়েক হাজার কিমি দূরে ইতালির মিলান শহরে!

তবে কি আজ মহালয়া ,কি সুন্দর স্বপ্নে মন ভরে গেল জুঁইয়ের। কদিন আকাশটা দেখে এতটাই সুন্দর লাগছিল যে মুগ্ধ হয়ে আপনমনে স্মৃতিচারণ করছিল নিজেই।পূজায় মামা বাড়িতে কত না হই হুল্লোড়, মামা,ভাইবোনদের সঙ্গে মাঠে ঘুরতে যাওয়া পুজোর গন্ধ মাখা সেইসব দিন অনেকটা অক্সিজেন যোগায় জুঁইকে। বাড়িতে সারাবছর রেডিওটা দাদুর জিম্মায় থাকলেও মহালয়ার আগের দিন সবাই খোঁজ নিতো রেডিওতে ব্যাটারি ঠিক আছে কিনা।গতবছরও মা-বাবা, ভাই-ঠাম্মা-দাদু একসাথে বসে রেডিওতে মহালয়া শুনেছে খুব মনে পড়ছে জুঁইয়ের।

জুঁই যেভাবে মা, মা করে ধড়ফড় করে উঠে বসেছে রুমমেট এলিনারও ঘুম ভেঙেছে। প্রশ্ন করছে আর ইউ ওকে ,অল ফাইন?ইয়েস ডিয়ার অল ফাইন, মিসিং মহালয়া।

“মো হা লো য়া”! ঘুম চোখে ভাঙা ভাঙা উচ্চারণে রাশিয়ান কন্যা এলিনার মুখে শব্দটা শুনে জুঁই আনন্দে এসে বসেছে ওর বিছানায়।ইয়েস ফ্রেন্ড “মহালয়া”বলে ততক্ষণে নেট সার্চ করে চালিয়ে দিয়েছে জলদগম্ভীর মন্ত্রপাঠ সহ দেবী দুর্গার গান। প্রথমে হতচকিত হলেও মজা পেয়ে গেছে মিউজিক নিয়ে পড়াশোনা করতে আসা এলিনা।জুঁই এর সঙ্গে পেয়িং গেস্ট থেকে ইতিমধ্যেই ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি তার শ্রদ্ধা,আগ্রহ বেড়ে গেছে।

কিছুক্ষণ পর ভাইয়ের ফোন এলো,” দিদি কাল মহালয়া,ভোরে রেডিও চালিয়ে ভিডিও কল করব তোকে।আনন্দে আত্মহারা হয়ে জুঁই বলল,আজ মহালয়া নয়? তাই নাকি আমার তো আজ থেকে শোনা শুরু হয়ে গেছে!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।