গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ১৩)

নীল সবুজের লুকোচুরি

বিদেশ যাবার আগে তোমার বাবা তোমার মায়ের সম্পূর্ণ সম্মতিতে পাণিগ্রহন করেন।”

” করুণাময়ের আশীর্বাদের ছোঁয়া নিয়ে তুমি তাদের ভালবাসার একমাত্র চিহ্নরূপে এই সুন্দর পৃথিবীতে স্থান পেয়েছে এবং আজ সার্থকভাবে মানুষের সেবা করে চলেছ।”
একটু থেমে আবার বলেন, “তুমি তো বড় হয়ে মাকে দেখেছ কত ব্যথা যন্ত্রণা নিজে সহ্য করেছেন কিন্তু তোমাকে সব আপদ বিপদ থেকে দূরে রেখেছেন। তিনি নিজের ওপর এবং নিজের ভালবাসার ওপর চিরকাল শ্রদ্ধা রেখেছেন। কখনও কলুষিত হতে দেননি। তাদের পবিত্র ভালোবাসার পবিত্রতম ফুল তুমি। তোমার মা নিজের সবটুকু আবেগ অনুভূতি দিয়ে তিলে তিলে তিলোত্তমা করে গড়েছেন তোমাকে। তুমি তার স্বপ্নের মূর্তি আর বাস্তবের ছুঁয়ে দেখা স্বপ্ন। “

চোখে একরাশ বিস্ময় নিয়ে আয়ান সুমিতার দিকে তাকিয়ে আছে। সুমিতা ধীরে ধীরে মিঠির হাত ধরে এগিয়ে যায় আয়ানের কাছে। একহাতে আয়ানের হাত আর অন্য হাতে মিঠির হাত ধরে অত্যন্ত শান্ত স্বরে বলে,
“— তোরা দুজনেই আমার কথাগুলো বুঝবি আশাকরি।
তুই চলে গেলি। আমার হসপিটালে কিছু ভালো লাগছিল না। কটাদিন ছুটি নিয়ে বাড়িতে গেলাম। মায়ের চোখে ধরা পড়ে গেল আমার শারীরিক পরিবর্তন। আমাদের সমাজকে চিনি বলেই বুঝতে পারি আইবুড়ো মেয়ের গর্ভধারণ যে আজো কতটা কঠিন। আমার চাকরির অভিজ্ঞতা আমার অনাগত সন্তানের ভবিষ্যত সম্পর্কে সাবধান করে দেয়। মায়ের চোখে নীরব জিজ্ঞাসা আমাকে বারে বারে প্রশ্ন করেছে “এই সন্তানের পিতা কে?” সে প্রশ্নের কি জবাব দেব? কে মেনে নেবে আমাদের সম্পর্ক? এমনই অসংখ্য প্রশ্ন আমার নিজের কাছেও রয়েছে। তাই মায়ের চোখের সামনে থাকতে না পেরে আমি বাড়ি থেকে চলে আসি। তখনও ছুটিতে ছিলাম তাই সবার আগে মাদারের সাথে যোগাযোগ করি। আমি নিজে হাতে শত শত নতুন প্রাণের জন্ম দিই। তাই নিজের সন্তানের প্রতি সতর্কতা আমার একটু বেশিই ছিল। আমি সন্তান সম্ভবা একথা কেউ যদি টের পায় তবে এই খবর পাঁচকান হতে সময় লাগবে না। সেজন্যই সবার আগে আমি পরিচিতদের ভিড় থেকে দূরে যেতে চেয়েছি। তখন অনেক কাটখড় পুরিয়ে ট্রান্সফার নিয়ে মাদারের কাছাকাছি চলে যাই। তাছাড়া তুই তখন বিদেশ বিভূয়েঁ। কেমন আছিস জানি না। আর তোকে খবর দিতে হলে যে শব্দ উচ্চারণ করতে হবে তা হাওয়ার কানে গেলে সন্তানের সুরক্ষা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যাবে। তাই তখন তোকে খবর দেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভেবেছিলাম তুই ফিরে এলে তোকে চমকে দেব। কিন্তু তুই তো ফিরে এলি এক রাজপুত্রের গল্প নিয়ে!

আসছি পরের পর্বে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।