গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৪)

নীল সবুজের লুকোচুরি
সুমিতা যখন এইসব কাজ গুলো করত আই’ রোজই একভাবে তাকিয়ে দেখে যেত সুমি’কে। কত যত্ন করে প্রতিটা জিনিস গুছিয়ে দিচ্ছে যাতে আয়ানের খুঁজে পেতে অসুবিধা নাহয়। আয়ানের মনে কিন্তু বিদেশে পড়তে যাবার জন্য কোন আনন্দ নেই। বরং একটা অদ্ভুত ধরনের কষ্ট হচ্ছে সুমিতার কাছ থেকে দুরে চলে যেতে হবে বলে।
এমনই এক সন্ধ্যায় সুমি আপনমনে আই’র ফাইলপত্র গোছাতে ব্যস্ত। আই’ খুব মনখারাপ করে বালিশে মুখ গুঁজে পরে আছে। অনেকক্ষণ ধরে সুমি সেটা লক্ষ্য করেছে।
তারপর ওর কাছে এসে জিজ্ঞেস করে, “কি রে, অসময় এমন করে শুয়ে আছিস কেন? কি হয়েছে তোর? নিজের কাগজপত্র গুলো একবার ভালো করে দেখে নে! ওঠ।”
আই’ কোনও সাড়া দেয় না শুধু ওর শরীরটা কান্নার বেগে ফুঁপিয়ে উঠছে। সুমিতার মনঠা খারাপ হয়ে যায়। ও আয়ানের আরো একটু কাছে গিয়ে বলে,”তুই এরকম বাচ্চাদের মত কাঁদছিস কেন? তোর মতো ভাগ্য ক’ জনার হয় বলতো? পড়ার জন্য বাড়ি থেকে টাকাপয়সার সাহায্য সবাই কি পায়? ভবিষ্যতের কথা ভেবে দেখ একবার! ডাক্তার আয়ান আনসারি.. এফ আর সি এস লন্ডন। আমার তো ভেবেই আনন্দ হচ্ছে। আর তুই এখানে এভাবে…”
আয়ান ভেজা চোখে উঠে বসে।
হঠাৎ করে সুমিতার হাত দুটো নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে নেয়। শক্ত করে হাত দুটো ধরে বলে, ” আমার একটুও যেতে ইচ্ছে করছে না। কিছু ভালো লাগছে না। আমি তোকে ছেড়ে কোথাও যেতে চাই না।”
সুমি’রও মনটা খারাপ হয়ে যায়। এই প্রথম এমন করে কাঁদতে দেখল আই’ কে।
আয়ান ভেজা চোখে ধরা গলায় বলে ওঠে, “তোকে একটা কথা বলব। শুনে যদি তোর রাগ হয়, যদি আমায় মারতে ইচ্ছে করে মানে যা ইচ্ছে তোর ইচ্ছে করবে তাই করবি কিন্তু কথার উত্তর না দিয়ে চলে যাবিনা।
তোকে এই কথাগুলো অনেকদিন আগেই বলতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি। আজ তোর উত্তর শোনার জন্য আমি অপেক্ষা করছি। বলছি, ভালো করে শোন। ভেবে উত্তর দে। তুই যা বলবি আমি সেটাই মেনে নেব।”
আসছি পরের পর্বে…