কবিতা সিরিজে রতন বসাক

আমার দেশের কথা
সবুজ শ্যামল দেশটাতে ফুল পাখি বৃক্ষ ভরা
এখানে মানুষের মনকে সহজেই যায় ধরা।
পাখির গানে মনটা ভরে সকাল হবার পরে
কৃষক গরু লাঙ্গল নিয়ে মাঠে গিয়ে কাজ করে।
জমির মাটি উর্বর করে ফসল ফলায় চাষি
রাখাল ছেলে গরু চড়াতে বাজায় কাঠের বাঁশি।
ছোট বড় সব ছেলেমেয়ে পাঠশালা যায় হেঁটে
নর নারী মানুষ সবাই টাকা আয় করে খেটে।
নদীর জলে নৌকা ভাসিয়ে মাঝি ভাটিয়ালী গায়
কাজের শেষে মানুষ রোজ ওপারেতে ফিরে যায়।
কুলুকুলু শব্দ করে ভেসে আগে বয়ে চলে জল
জাল ফেলে মাছ ধরে জলে জেলেদের যত দল।
মন্দরি মসজিদ গির্জাতে মানুষের ঢল নামে
পথে দেখলে কাউকে কথা বলার জন্যই থামে।
ভালোবাসায় ভরা সবার মনটা খুঁজলে পাবে
প্রকৃতির দৃশ্য ভালো লাগে যত দূরে চলে যাবে।
হিংসা বিদ্বেষ করে না কেউ মিলেমিশে সব রয়
নারী চলে পথে নির্ভয়েতে নেইতো কারোর ভয়।
আমার দেশের কথা হলো সবাই থাকুক ভালো
ঘরে কিংবা বাইরে দেখবে সদাই খুশির আলো।
বদলাই চলো
নিজের মানটা অধিক বড়াতে
লড়াই লাগায় রাজা,
দেশের নিরীহ আমজনতারা
পায় তার সব সাজা।
লড়াইয়ে জিতে গর্বে অহংকারে
মাথা উঁচু করে চলে,
মরছে মরুক দেশের মানুষ
জিতবে যেকোন বলে।
রাজার হিসবে কোনো মূল্য নেই
গরিবজনের দেশে,
লড়াইয়ে প্রাণ গেলে সব কিছু
উড়িয়ে দেয় যে হেসে।
প্রয়োজনে নর কিংবা নারী যাই
লাগুক রাজার চাই,
এর থেকে বেঁচে থাকার কারোই
দেশেতে কখনো নাই।
আর কতদিন চলতে থাকবে
রাজার এমন নীতি?
ভয়টা সরিয়ে সাহস করেই
বদলাই চলো রীতি।
জোনাকির কথা
আঁধার যখন নেমে আসে
তখন তোমার দেখা,
জোনাকি ঐ বাতি জ্বেলে
কাটতে থাকে রেখা।
হালকা করে লাগে ভালো
অন্ধকারটা হলে,
নিজের পিছে রেখে দিয়ে
ওঠো তুমি জ্বলে।
সারাটাদিন কোথা থাকো
দেখা পাই না কেন?
সূর্য্যি মামার আঁড়ি আছে
তোমার সাথে যেন।
কেমন করে জ্বলো তুমি
একটু বলো এসে,
বন জঙ্গলে ফাঁকা স্থানে
সন্ধ্যা থেকে ভেসে।
নতুন যুগের তালের সঙ্গে
নেই যে কোনো মূল্য,
তোমার মতো এত সুন্দর
আলোর হয় না তুল্য।
ঢিল মেরো না
দোয়েল টিয়া ময়না চড়ুই
শালিক ঘুঘু কাক,
দেয় যে তারা ঠোঁটটা খুলে
ভিন্ন রকম ডাক।
ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়
যেদিক ইচ্ছে চায়,
গাছের ডালে বসে থেকে
পাকা ফলটা খায়।
কিছু পাখি বলতে পারে
মানুষ যেমন কয়,
ভালোবেসে রাখলে পরে
খাঁচার ভিতর রয়।
পরিবেশকে সুন্দর রাখে
এটাও পাখির দান,
রোজ শেখালে সুরটা ধরে
গাইতে পারে গান।
আকাশ জুড়ে ভেসে চলে
অনেক উঁচোয় চিল,
পাখি দেখে লোভে পড়ে
কেউ মেরো না ঢিল।