তাঁর প্রথম উপন্যাস হলুদ বসন্ত (১৯৬৭) থেকে চাপরাশ (১৯৯৮) এই দীর্ঘসময় ধরে তিনি সমান সমাদৃত৷ এত দীর্ঘ সময় ধরে একই রকম জনপ্রিয়তা নিয়ে পাঠকের মনে জায়গা ধরে রাখা খুব শক্ত ব্যাপার৷ জঙ্গলকে তিনি চিনিয়েছেন প্রেমিকের চোখ দিয়ে। উপহার দিয়েছেন একের পর এক অসাধারণ লেখা। জঙ্গল, তার রোম্যান্টিকতা, রহস্যময়তা, পশু, মানুষ, প্রেম, অপ্রেম, বিশ্বাস, অবিশ্বাস অনায়াস সাবলীলতায় ফুটে উঠেছে উপন্যাসের পাতায়৷
‘জঙ্গলমহল’, ‘কোজাগর’ থেকে শুরু করে অজস্র বইয়ে এই চরম রোমান্টিকতা একেবারে নিবিড়ভাবে ধরা দিয়েছে, কখনও মনে হয়নি আরোপিত৷ তার ‘একটু উষ্ণতার জন্য’ একসময় যুবমহলে আলোড়ন তুলেছিল।
স্কাইস্ক্রেপার, লিভ টুগেদার, Ramp walk নয় শিউলি রজনীগন্ধাও নয়, একেবারে পলাশ শিমুলের বনে বন মুরগী, শরীরে ডুবতে থাকা রাত তার সাথে মোৎজার্ট স্কচও চলতে পারে৷ এ এক অবিস্মরনীয় সংযোজন৷ আদ্যন্ত রোম্যান্টিক জঙ্গলপ্রেমিক। আর বাঙালি পাঠকের সঙ্গেও পরিচয় করে দিয়েছিলেন জঙ্গল ও তার রোম্যান্টিকতাকে। তবে তিনি কোনো চেনা ছকে বদ্ধ হতে চাননি। ঋজুদা ও তার সঙ্গী রিভুর হাত ধরে ছোটদের সাথেও বেশ ভাব জমিয়েছিলেন৷ বাংলা সাহিত্যের দাদাদের মধ্যে (ফেলুদা, টেনিদা, ঘনাদা) ঋজুদা স্বতন্ত্র। তার বিচরণের ক্ষেত্রও আলাদা। স্বদেশ ও বিদেশের বন-জঙ্গল। তার স্বভাবজ দৃঢ়তা, তার বুদ্ধি, তার মরমী মন অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয়তা এবং হার না মানার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তাকে একেবারে আলাদা করে দিয়েছে অন্যদের থেকে৷
নিবিড় ভালবাসার সংরাগ তাঁর একাধিক প্রেমের উপন্যাসের পটভূমিতে সৃষ্টি করেছে রামধনুর বর্ণচ্ছটা। তাঁর শক্তিশালী কলম নরনারীর প্রেমজীবনের আন্তরচিত্র এমনভাবে এঁকেছেন যে, পাঠকদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গিটাই বদলে গেছে।
কোভিড থেকে ফিরে এলেও, পোস্ট কোভিডের কাছে হার মানলেন চিরপ্রেমিক এই সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ৷ তথাপি পাঠক হৃদয়ে সমান উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন তিনি শতাব্দীর পর শতাব্দী ৷