T3 || লক্ষ্মী পুজো || সংখ্যায় রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

খেজুর রস
ক্রমশঃ বাতাস ভারি হচ্ছে৷ আগের মত আলো আলো উঠোন, শিউলি মাখা সম্পর্ক, মাছরাঙার জল ঢেউ কোথায় ! নাট মন্দিরের খোল কত্তাল শঙ্খধ্বনি আর আজানের আকাশনন্দিনী মিলেমিশে একটু একটু করে মায়া মাখত আমাদের জীবনে৷ রূপালী জলের মাছ যেমন দেশ কাল জাতি ধর্মের বাঁধা মানে না, ঠিক তেমন নিরবধি অবলীলায় বন্ধনহীন মেঘের মত সকলের উঠনে এক পশলা করে আমরা বৃষ্টি ঝরিয়ে আসতাম রোজ৷ সাত সকাল বেলা চাক ভাঙ্গা মধু নিয়ে হাজির হত করিম চাচা ৷ তাঁর হাঁকে ডাকে আমাদের বাড়িটা যেন বট গাছ হয়ে যেত৷ যেখানে হাজার পাখি এসে আশ্রয় নেয়৷ শ্রান্ত মানুষ জিরিয়ে নেয় যার ছায়ায়৷
শনিবারের হাটে বিধু বাউরিরর থেকে নলখাগড়ার বাঁশি নিয়ে সারা রাস্তা বাজাতে বাজাতে ঘরে ফিরতাম৷ কাঁচের চুড়ি, ফিতে, আর বাঁশি, হত পরবর্তী কয়েক দিনের সাথী৷ সাবিনা বিবির মন কেমন করা ফিরনির গন্ধে পড়া ফেলে ছুটে যেতাম ৷ চাচী না, কাকীমা বলেই সম্বোধন করতাম৷ একগাল হেসে দাঁড়াতেই, পঞ্চাশোর্ধ্ব কাকীমা বিগলিত জোৎস্নার মত হাতের ফুলকাটা রেকাবিতে ফিরনি নিয়ে হজির হত৷ উঠনের চারাগুলো, তুলসী তলা, সবাই জানত প্রতি পূর্ণিমায় আমার ঠাকুমা হরির লুঠ দিলে আমি, বুকু, হিমু, মাহিয়া, রবার্ট সবাই মিলে বাতাসা লুফে নেব৷
এই পূর্ণিমেতে তেমনটি হবে নাকো৷ আজ কোজাগরী পূর্ণিমে৷ ঠাকুমা নাড়ু, ত্বক্তি, লুচি, সুজির হালুয়া, খিচুড়ি লাবড়া, আলুর দম- আরও কত কী বানিয়েছে, সারা বাড়ি ভোগের গন্ধে ম- ম করছে গো! হামরা পাঁচ জন শুধু পুজো শেষ হওয়ার অপেক্ষায়, তারপর হামলে পড়ব প্রসাদের ওপর৷
তোমরা কি চাইলেও আকাশ, জল, বায়ু ভাগ করতে পারবে? তবে এত বিরোধ কেন? কেন এত রক্তগঙ্গা? বুকু, হিমু, মাহিয়া, রবার্টসদের নিয়ে, নাট মন্দিরের খোল কত্তালে আবার হৃদয়ের গোকুল ভেসে ওঠার প্রতীক্ষায়৷ না হয় খেজুর রস পান করেই একে অপরের স্বাস্থ্য পান করব৷ দেখ ভালোবাসার রাজনন্দিনী হাটে আবার সবাই মোহনমিতালী আলিঙ্গনে কাটিয়ে দেব শতাব্দীর পর শতাব্দী…
বাঃ ভারী সুন্দর