ক্যাফে প্রবন্ধে রাকেশ ব‍্যানার্জী

জোয়ারভাঁটার কারণ

পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের এবং পৃথিবীর প্রতি মুহূর্তের গতির উপর এবং তার মাধ‍্যমেই পৃথিবীর আবহাওয়ায় প্রভাব বিস্তারকারী মহাজাগতিক বস্তুদুটি হল সুর্য‍্য এবং চাঁদ।যদিও পৃথিবীতে প্রাণসঞ্চার এবং সেই প্রাণের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন‍্য সবচেয়ে প্রভাবশালীভূমিকা অবশ‍্যই সূর্য‍্যের কিন্তু প্রাচীনকাল থেকেই সূর্য‍্যের প্রচন্ড ঔজ্জ্বল‍্যই তাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে মানুষের সামনে একটা অনতিক্রম‍্য বাঁধার সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু চাঁদের আলো এরকম কোন বাঁধার সৃষ্টি করে নি বলেই মানুষ তার ধর্মজীবনে বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানের সূচী চান্দ্রমাস বা চান্দ্রবছর অনুযায়ী ঠিক করেছে।তাই পূর্ণিমা বা অমাবস‍্যা অথবা শুক্লপক্ষ বা কৃষ্ণপক্ষ এই তিথিগুলো ধর্মীয় জীবনে একটা আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
কিন্তু দীর্ঘদিন মানুষ পূর্ণিমা বা অমাবস‍্যা কেন হয় তা জানার মত প্রয়োজনীয় জ্ঞান সঞ্চয় করে উঠতে পারে নি। চন্দ্রগ্রহন বা সূর্য‍্যগ্রহন দেখলেও এবং তারা যে কেবল যথাক্রমে পূর্ণিমা এবং অমাবস‍্যাতে সংঘটিত হয় বুঝেও এই মহাজাগতিক ঘটনাগুলিকে ঈশ্বরের কাজ ভেবে নিশ্চিন্ত থেকেছে । নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র আবিষ্কারের পরবর্তীকালে মানুষ বুঝেছে যে সবঘটনাই কেবল লৌকিক এবং তার কারনও বুঝতে পেরেছে।বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই গ্রহনের পেছনে কারনটা জানে।কিন্তু কেন চন্দ্রগ্রহন প্রত‍্যেক পূর্ণিমায় হয় না বা সূর্য‍্যগ্রহন প্রত‍্যেক অমাবস‍্যায় হয় না?প্রত‍্যেক মাসে দুটি এমন দিন আসে যাতে চাঁদ কে পৃথিবী থেকে পূর্ণ গোলকের মত দেখায় বা আকাশে চাঁদ দেখাই যায় না।।কিন্তু অধিকাংশ অমাবস‍্যা এবং পূর্ণিমাতেই এরা ঠিক একই সরলরেখায় আসে না কারন চন্দ্র ও পৃথিবীর কক্ষতল সূর্য‍্য এবং পৃথিবীর কক্ষতলের সাথে সামান‍্য কোন করে আছে।তাই প্রত‍্যেক পূর্ণিমা বা অমাবস‍্যায় চন্দ্র বা সূর্য‍্যগ্রহন হয় না।
এই চাঁদ পৃথিবীর বুকে প্রতিদিন জোয়ার ভাঁটার সৃষ্টি করে এটা সবাই জানে।কিন্তু অনেকের ধারনা যে পৃথিবীর যেদিকে চাঁদ কোন নির্দিষ্ট সময়ে অবস্থান করে সেদিকের জলকে বেশী টানে কিন্তু পৃথিবীকে কম টানেএবং ঠিক উল্টোদিকের জলকে কম টানে কিন্তু পৃথিবীকে বেশী টানে তাই সমুদ্রে জোয়ারভাঁটা হয়।কিন্তু এটা সর্বৈব ভুল ধারনা। চাঁদ এবং পৃথিবী দুজনার একটি সাধারন ভরকেন্দ্র আছে যা পৃথিবীর আয়তনের মধ‍্যে কিন্তু পৃথিবীর এবং চাঁদের কেন্দ্র সংযোগকারী সরলরেখার উপর পৃথিবীর কেন্দ্রের একটু পাশে।এই বিন্দুর সাপেক্ষেই চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। চাঁদ পৃথিবীকে আকর্ষণ করলেও পৃথিবী তার জড়তার((বাস্তবিক ভর)জন‍্যই তার আসল কেন্দ্রের সাপেক্ষে অবস্থান বজায় রাখতে পারে কিন্তু সমুদ্রের জলের জাড‍্য কখনই কঠিন পৃথিবীর মত বেশী নয়।তাই জল কখনই ব‍্যালান্স বজায় রেখে স্থির থাকতে পারে না। একই সঙ্গে এই ব‍্যালান্সের অসাম‍্য এবং পৃথিবীর প্রদক্ষিণের জন‍্য জলের উপর ক্রিয়াশীল অপকেন্দ্র(centrifugal) বলের জন‍্য জল বাইরের দিকে ফুলে ওঠে।তাই সেখানে জোয়ার আর অন‍্য স্থানের থেকে জল সেইদিকে প্রবাহিত হয়ে অন‍্যান‍্য স্থানে জলের উচ্চতা কমিয়ে দেয় ফলে সেখানে ভাঁটা হয়। গ্রহনের সময় চাঁদ ও সূর্য‍্যের পৃথিবীর সাথে একই সরলরেখায় অবস্থানের জন‍্য পৃথিবীর উপর এদের মিলিত আকর্ষন আরও বেশী ভারসাম‍্য‍্যের সমস‍্যা তৈরী করে তাই ঐ দুইসময়ে জল আরও বেশী ফুলে ওঠে এবং ভরা কোটাল হয় ।যেটা অনেকবেশী বিপজ্জনক হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করে। কাজেই এর থেকে বোঝা যায় যে মাধ‍্যাকর্ষনের জন‍্যই জোয়ার ভাঁটা হয় কিন্তু ব‍্যাখ‍্যাটা সম্পূর্ন অন‍্যরকম।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।