আগুনের গনগনে আঁচে একটা গোটা ভারতবর্ষ পুড়ছে ৷ মঞ্চে ধূমায়িত ভাতের ফ্যানে সাঁতার কাটছে অর্ধমৃত মানুষগুলো ৷ পাঁকে পাঁকে জড়িয়ে ধরছে অনশন, অশরীরী অশনি ৷ বিধ্বস্ত আলুলায়িত কেশে জননীর আর্তনাদ দিগন্ত চিরে ক্রমশঃ সমাধিস্থ হচ্ছে গুম ঘরে ৷ অত্যাচারীর খর্গ কৃপাণ রক্তের স্বাদে লোভী হায়নার মত বারংবার শিকারকে প্রদক্ষিণ করে ৷ বন্দীশালার অন্ধকার কুঠুরিগুলো রক্তবীজের মত বাড়তে থাকা বিপ্লবকে, দানা দেয়, পানি দেয় ৷ বেড়ে চলে ঢেউ ৷ উদ্দাম উত্তাল বিপর্যস্ত ছন্দে ৷ সংগ্রামের পাজরে ঘন্টা ধ্বনি বেজে ওঠে সহসা ৷ কলম ঝলসে ওঠে তোমার, প্রতিটি বাঁকে, করিডোরে মুক্তমন্ঞ্চে আল খেতে ৷ জেহাদের বীজগুলো যা ছিল ঘুমন্ত এতকাল ৷ আলো পায়, সার পায় ৷ সশব্দে ফেটে পড়ে, সামিয়ানা ছাড়িয়ে গৃহস্হের কলোনিতে ৷ তোমার এক একটা শব্দ জ্বলন্ত মিশাইলের মত শত্রু শিবিরকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করেছে ৷ তোমার বর্ণমালার সম্মোহনে বিশাল জনসমুদ্র মহা কল্লোলে বিষাক্ত অজগরের হাঁ নিয়ে গিলে ফেলতে চেয়েছে অত্যাচারীর রাজ্যপাট ৷ কখনও রুদ্র নৃত্যের বিভঙ্গে নটরাজ কখনও সৃষ্টি সুখের উল্লাসে প্রতিনিয়ত বরাভয় দিয়ে যাও ৷ নিবিড় ভালোবাসার স্পর্শ গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়েছে ৷ তোমার শব্দরা ররুমঝুম অনুরণনে জলকেলি করে, ভেসে যায় বাতাসের কানে কানে ৷ তবু বিচ্ছেদ আসে ৷ নীরবে নিভৃতে ৷ ঘুমন্ত বুলবুলটার কলজে উপরে, নিয়ে যায় নিয়তির খড় অক্ষরগুলো ৷ তোমার শব্দেরা প্রেমিকার ঠোঁটে , বন্দুকের নলে, কৃষকের কাস্তের ফলায়, শ্রমিকের কালো ঘামে বুদবুদ হয়, খেলা করে, গন্ধকের মত জ্বলে ওঠে ৷ আমার চেতনায় তোমার ছবি ৷ আমার পথের বাঁকে তোমার অক্ষরগুলো স্ফুলিঙ্গ হয়ে আলো দেখায় ৷ আমার প্রতীক্ষা আরও গাঢ় হয় ৷ পাথরের বুক চিঁড়ে, আকাশকে ফালাফালা করে, নদীর গতিপথকে ঘুরিয়ে দিয়ে এই অস্হির সময়ে আবার কবে তুমি বলে উঠবে, ” আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু! ”
আমরা সকলে হয়ত এই মুহূর্তে সেই ধুমকেতুরই⚡️ অপেক্ষা করছি৷