এদিকে বাজারে এলে খানিক ঘুরপথে মামারবাড়ির সামনে দিয়েই যাই। ২২/বি উপেন বোস রোড। ভিতরে ঢুকি না অবশ্য, তবু একবার চোখের দেখা হয়। ওই গোল ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে রেলিঙে মুখ রেখে একদিন রাস্তা দেখতাম। আজও অজান্তেই ঢুকে পড়েছিলাম কখন চেনা পথে। সেই প্রাচীন জামগাছটির সাথে দেখা হল। কালো ঝুপসি থোকা থোকা জাম ঝুলছে বৃষ্টিভেজা আকাশের বুক থেকে। নিচে ছেতরে পড়ে আছে কতক। উপেন বোস রোড পেরিয়ে বড় রাস্তায় উঠে মনে পড়ল, একবারও মুখ তুলে দেখা হল না সেই বাড়ি, ঝুল বারান্দা। একবার ভাবলাম ফিরে যাই। একযুগ পথ। এই রাস্তায় ঢোকা মাত্র প্রতিদিন ওটুকু দূরত্ব লাফ দিয়ে পার হয়ে যাই। দশ বছর আগে ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাওয়া একটা পুরনো বাড়িকে দেখতে যেটুকু কষ্ট করতেই হয় আর কী!
ট্যাটু
তোমার সারা গায়ে অজস্র ট্যাটু
পিঠের উন্মুক্ত ক্যনভাসে ডানা মেলা প্রজাপতি
বাহুতে অলিভ পাতা
বিভাজিকার একপাশে তিনটে শূন্যগর্ভ তারা
বৃন্তকে ছুঁয়ে জীবন্ত বৃশ্চিক
নাভির উপরে এঁকেছ পপি ফুল
প্রথম এসব দেখে আমিও হতবাক
বৃন্তে মুখ দিলে বিছে কিলবিল করে
পিঠে নাক ঘষলেই পাখার রং লাগে
নাভিতে জিভ ছোঁয়ালেই পাপড়ি ভিজে যায়
এ যেন ভাবনাতীত রোমাঞ্চ, দৃশ্যাতীত আলো
এখন তুমি আমার জন্য একটা নতুন ট্যাটু এঁকেছ
তোমার জানুতে একটা কিউট বিড়ালছানা
ওকে তুমি ইঁদুর শিকার শেখাও আজকাল।